এবার তো ঘটেছে বিরল ঘটনা। দুজনই পেয়েছেন ফাইফার। একটি বল এবার দুজন কিভাবে দুজন উঁচিয়ে ধরবেন? এই সমস্যার সমাধানেও দেখা গেল বিরল ঘটনা। কোনো কাড়াকাড়ি বা তর্ক না করে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিলেন দুই পেসার। উইকেট যেমন সমান, বলটিও কেটে ভাগ করে নেওয়া হবে। দু’জনই রাজি এমন সিদ্ধান্তে। এরপর গ্রাউন্ড স্টাফদের দিয়ে সেই কাজটা সম্পন্ন করা হলো। ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এমন ঘটনাও খুবই বিরল হয়। হয়তো কখনো এমন ঘটনাই ঘটেনি।
হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিনে সাকুল্যে ১৭১ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ইংলিশদের হয়ে প্রথম ইনিংসে ১০টি উইকেটই ভাগ করে নেন দুই পেসার রবিনসন ও টাং। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দুই বোলারের একই ইনিংসে এমন ফাইফার বা ৫ উইকেট পাওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। আর সেই অর্জনকে আজীবন স্মৃতির ফ্রেমে বন্দী রাখতে ম্যাচ বলটি কাটার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
মজার ছলে হওয়া এই আইডিয়া নিয়ে রবিনসন বলেন, ‘মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় টাংকে বললাম, বলটা কেটে দুভাগ করি। ও-ও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল! ভাবলাম আইডিয়াটা দারুণ হবে। ক্রিকেটে তো আর অর্ধেক বল দেখা যায় না!’
বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে জশ টাংও শোনালেন সেই স্মৃতির কথা। তিনি বলেন, ‘রবিনসনই প্রথম আইডিয়াটা দিয়েছিল। পরে গ্রাউন্ড স্টাফরা খুব সুন্দর করে করাত দিয়ে বলটা কেটে দিয়েছে। জীবনে প্রথম এমন কিছু দেখলাম। এই স্মারকটি আমি আমার ঘরের খুব বিশেষ এক জায়গায় যত্ন করে তুলে রাখব।’
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একই ইনিংসে ইংল্যান্ডের দুই বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটি মাত্র ১৬তম। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষেই এই কীর্তি গড়েছিলেন সাইমন হার্মিসন ও মন্টি পানেসার। ১৮ বছর পর এবার স্পিনারদের বদলে পেসারদের হাত ধরে ফিরল সেই ইতিহাস।
এই ম্যাচের দিনটি রবিনসনের জন্য ব্যক্তিগত দিক থেকেও ছিল দারুণ আবেগের। যেন গল্পের মাঝেও একটি গল্প ছিল। আগের সপ্তাহেই রবিনসনের ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছে তার দ্বিতীয় কন্যা ইভা। নতুন অতিথির মুখ দেখে মাঠে নেমে এমন দারুণ পারফরম্যান্স করতে পারায় আনন্দটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে জানান এই পেসার।
এদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে ২ উইকেটে ১১২ রান তুলে দিন শেষ করেছে। জো রুটের দ্বিতীয় দফার টেস্ট অধিনায়কত্বটাও যেন দারুণ এক জয় দিয়ে শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।