পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে হুট করে চলে যাওয়ার ঘটনায় বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার এই আকস্মিক পদক্ষেপে অনেকেই সিআরসেভেনের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি দেখছেন।
ফুটবল দুনিয়ায় যখন এই নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ফ্রান্সের কোচ জিনেদিন জিদান। পর্তুগিজ মহাতারকার অসাধারণ ও বর্ণিল ক্যারিয়ারের কথা স্মরণ করে তার প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই ফরাসি কিংবদন্তি।
চলতি উয়েফা নেশন্স লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছিল পর্তুগাল। টুর্নামেন্টের সেই উদ্বোধনী ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকলেও পুরো ম্যাচে বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন রোনালদো। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে দলের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে পুরো ৯০ মিনিটই বেঞ্চে বসে কাটাতে হয় তাকে। আর মূলত এখান থেকেই পর্তুগিজ শিবিরে শুরু হয় গুঞ্জন ও আলোচনার ঝড়।
ওই ম্যাচের পর টানা দুই দিন দলের সঙ্গে কোনো অনুশীলন করেননি রোনালদো। যার ফলে কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নানা খবর চাউর হতে থাকে। এরই মধ্যে গত বুধবার ডেনমার্কের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগের দিন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে হুট করেই দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ড ১৪৬ গোলের মালিক।
বয়সের হিসেবে ৪১ বছর ছুঁইছুঁই রোনালদোকে নিয়ে এমন ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে, পর্তুগালের জার্সিতে হয়তো তাকে আর কখনোই মাঠে দেখা যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ডকে নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন বর্তমান ফরাসি কোচ জিদান।
রোনালদোর অবদান স্মরণ করে জিদান বলেন, ‘ফুটবলে তার যে দুর্দান্ত ও অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ার, তা আমাদের প্রত্যেককে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। একসময় তাকে কোচিং করানোর সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বহু স্মরণীয় শিরোপা জিততে সে আমাকে যেভাবে সাহায্য করেছে, তা ভোলার নয়।
রোনালদোকে সম্মান জানিয়ে জিদান বলেন, ‘টুপি খোলা অভিবাদন জানাই তোমাকে, ক্রিশ্চিয়ানো। আমার ক্যারিয়ারে যাদের সঙ্গেই কাজ করার বা সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে, তাদের সবার প্রতিই আমার অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা সবসময় বজায় থাকে।’
এর আগে কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদান ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতিয়েছিলেন। আর লস ব্লাঙ্কোসদের ওই সোনালী সাফল্যের পেছনে মাঠে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে বড় ও চালিকাশক্তি।