সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও যোগদান করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী। ফল প্রকাশের ১৭১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপত্র ও যোগদানের নির্দেশনা না পাওয়ায় দ্রুত পদায়নের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবারের মধ্যে যোগদানের তারিখ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। অন্যথায় আগামী রোববার (২ আগস্ট) থেকে সারা দেশে লাগাতার শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
‘কেন্দ্রীয় প্রাইমারি প্যানেল ২০২৫’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা বলেন, তারা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব ধাপ সম্পন্ন করার পরও বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ পাচ্ছেন না। অথচ দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদানে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফারজানা আক্তার ও দেবব্রত রায় লিখিত বক্তব্যে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা–২০২৫ অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। যোগদানের আগে প্রশিক্ষণ বা এনএসআই ভেরিফিকেশনকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
তারা দাবি করেন, আগের নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোতে ফল প্রকাশের পর ১৪ থেকে ৫৪ দিনের মধ্যেই যোগদান সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু এবার দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় প্রার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
প্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নিয়োগ আটকে থাকায় অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ আগের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, কেউ বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অপেক্ষার সময়ে এক প্রার্থী হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সন্তানকে শিক্ষক হিসেবে দেখতে চাওয়া অন্তত ১২ জন প্রার্থীর বাবা এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
দেবব্রত রায় বলেন, “আমরা বিশেষ কোনো সুবিধা চাই না। নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার চাই। দ্রুত শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিশুদের পড়ানোর সুযোগ চাই।”
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে যোগদান ও পদায়নসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ না হলে ৬১ জেলার ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক রোববার থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
ফারজানা আক্তার বলেন, গত ১৭১ দিনে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পাননি।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয় এবং ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও যোগদান করতে না পারায় গত এপ্রিলের শেষ দিকেও রাজধানীতে আন্দোলনে নেমেছিলেন প্রার্থীরা। সে সময় প্রশিক্ষণসহ কিছু শর্তে যোগদানের ব্যবস্থা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র বা যোগদানের নির্দেশনা না পাওয়ায় আবারও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।
এসএন/পিডিকে