যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিমান হামলা সাময়িক বন্ধ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির উদ্বেগ কিছুটা কমে আসায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ৮৯ দশমিক ০৩ ডলারে পৌঁছেছে।
স্বাধীন বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান জানান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সাময়িক প্রশমিত হওয়ায় সপ্তাহের শুরুতেই মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজার চাঙা হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে এবং মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি ইল্ড (বন্ডের সুদ) কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা লক্ষ্যবস্তুর অভাব ও মার্কিন অস্ত্রাগার শূন্য হওয়ার আশঙ্কার কথা জানানোর পর ওয়াশিংটন তাদের বোমাবর্ষণ সাময়িক স্থগিত করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার (২৬ জুলাই) ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও পাল্টা হামলা চালাবে না।
এই যুদ্ধবিরতির খবরের পর হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধানের আশা তৈরি হয়েছে। ফলে সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে যায়। সাধারণত জ্বালানি তেলের চড়া দাম বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ায় ও সুদের হার দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ রাখার শঙ্কা তৈরি করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা এখন একদিকে ইরানের পরিস্থিতি ও অন্যদিকে ফেডের সিদ্ধান্তের ওপর কড়া নজর রাখছেন। ফেড যদি সুদের হার আর না বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দেয়, তবে তা স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও সোমবার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বিশ্ববাজারে স্পট সিলভারের (রুপা) দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৯ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৬৩১ দশমিক ২০ ডলার ও প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ২৮৪ ডলারে বিক্রি হয়েছে।