ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অবৈধ আগ্রাসনের ফলে জ্বালানি মূল্য ও এই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি জন্য ‘ভিক্ষা চাচ্ছে’।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে ইরানের জাঞ্জান শহরের এনকেলাব স্কোয়ারে আয়োজিত এক সমাবেশে মোহাম্মদ আকবরজাদেহ এই মন্তব্য করেন।
আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি জনগণের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে আকবরজাদেহ মার্কিন আধিপত্যের পতনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আঞ্চলিক দেশগুলো এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলো বুঝতে পেরেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আর তার মিত্রদের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়।”
তিনি আরো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল সামরিক আক্রমণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা অভ্যন্তরীণবিদ্রোহ উস্কে দিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শক্তিকে দমন করা যাবে। কিন্তু এটি ছিল তাদের একটি ‘ভুল হিসাব’।”
আইআরজিসির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, “শত্রুদের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের নিখুঁত প্রতিশোধমূলক হামলাগুলো পশ্চিমাদের সেই দাবিকে মিথ্য প্রমাণ করেছে, যেখানে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘নকল’ বলেছিল।
তিনি যোগ করেন, “ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এর জবাব দিতে না পারা ইরানের শক্তি প্রমাণ করেছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তারা কিছুই করতে পারবে না।”
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রস্তুতি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে উল্লেখ করে আকবরজাদেহ বলেন, “দক্ষিণ উপকূল ও দ্বীপগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের ভিত্তিতে আমি জোর দিয়ে বলছি, সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সম্ভাব্য যেকোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে ইরানের প্রতিক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।”
বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তিত ভারসাম্যের কথা উল্লেখ করে আকবরজাদেহ বলেন, “ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘যুক্তরাষ্ট্রকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেছে এবং এর থেকে সুবিধা আদায় করতে পেরেছে’।”
তাইওয়ান ও ইউক্রেনের মতো চ্যালেঞ্জের মুখে চীন ও রাশিয়ার মতো অন্যান্য বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের শক্তির তুলনা করে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যগুলোকে নস্যাৎ করতে ইরান খুবই সফল হয়েছে।”
আকবরজাদেহ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “নতুন করে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যর্থতা ও অপমান ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না।”
এসএন/পিডিকে