মেলান্দহে ইউপি নির্বাচন ঘিরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৬

জামালপুরের মেলান্দহে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দী বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল্লাহ, বিএনপি কর্মী জাকির হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আলতাফুর রহমান, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদের ভাই মো. বেলাল, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মো. সোলায়মান এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য হাজী আবদুস সাত্তার।

স্থানীয়রা জানায়, মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৈয়বুর রহমান মাস্টার ও একই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা নুরে আলম তালুকদার রুনুর সমর্থকদের মধ্যে আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই কোন্দল চলছিল। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রুনু তালুকদারের সমর্থকদের একটি নির্বাচনি মহড়া শেষে উসকানিমূলক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ মুখামুখি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে আজ বুধবার বিকেলে চর গোবিন্দী বাজারে দুই পক্ষ আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৈয়বুর রহমান মাস্টার জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঘটনাটির কথা শুনে তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পুলিশকে অবহিত করেছেন।

অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রশিদ বাবুল জানান, গত মঙ্গলবার এক পক্ষের উসকানিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে গেলে আজ বুধবার উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম তালুকদার রুনু বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মঙ্গলবার রাতে আমার সমর্থকেরা বাজারে বসে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন মাতাল অবস্থায় এসে হট্টগোল শুরু করে এবং আজ বুধবার তারাই প্রথম হামলা চালায়।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *