একসময় মনে হচ্ছিল, হারারের উইকেটে লড়াই করার মতো একটি সংগ্রহ গড়বে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে সেই স্বপ্নও দেখাচ্ছিল সফরকারীরা। কিন্তু মুমিনুলের বিদায়ের পর যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ২৭ রান যোগ করতেই শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস!
হারারে টেস্টের প্রথম ইনিংসের প্রথম দিনে আজ ভয়াবহ ব্যাটিং ধসে সর্বনাশ বাংলাদেশের। মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দায়িত্বশীল জুটিতে বড় সংগ্রহের আশা জাগলেও তাদের বিদায়ের পর মাত্র ২৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানেই অলআউট হয়েছে সফরকারীরা। ৪৭.২ ওভার ব্যাটিং করে সবকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশার। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় মাত্র ২ রান করে বিদায় নেন। নিউম্যান নিয়ামহুরির বলে রক্ষণাত্মক শট খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। বলটি গ্লাভসে লেগেছিল নাকি শরীরের অন্য কোথাও, তা স্পষ্ট না হলেও জোরালো আবেদনের পর আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। এই সিরিজে ডিআরএস না থাকায় সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাননি জয় এবং হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়েন।
এরপর সাদমান ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন মুমিনুল। সাদমান ২০ রান করে ফিরলেও মুমিনুল ও শান্ত মিলে ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। লাঞ্চের পরও দুজন সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান। ৮১ বলে ৬০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন মুমিনুল, যেখানে ছিল আত্মবিশ্বাসী ও পরিণত ব্যাটিংয়ের ছাপ।
তবে দলের ১১৩ রানের মাথায় মুমিনুল আউট হওয়ার পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। অপর প্রান্তে থাকা শান্তও ৭৩ বলে ১৯ রান করে ১২৫ রানের মাথায় ফিরে গেলে প্রতিরোধ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
শীর্ষ চার ব্যাটারের বাইরে আর কেউ দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম ২১ বলে ৯, তাওহিদ হৃদয় ১৬ বলে ৩ এবং অমিত হাসান ১৫ বলে ৪ রান করেন। শেষ দিকে ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলেই দ্রুত গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নিউম্যান নিয়ামহুরি। তিনি ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স দুটি করে উইকেট নিয়ে শেষ করে দেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ!
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৭.২ ওভারে ১৪০/১০ (জয় ২, সাদমান ২০, মুমিনুল ৬০, শান্ত ১৯, মুশফিক ৯, হৃদয় ৩, অমিত ৪, তাইজুল ৯, হাসান ০, খালেদ ০, ইবাদত ০*; এনগারাভা ২/১৮, মুজারাবানি ২/১৯, নিয়ামুরি ৪/৬১, ইভান্স ২/৩০)
এসএন/কে