মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার পরামর্শ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে- এমন আশঙ্কায় ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করার অথবা প্রয়োজনে দ্রুত দেশ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আম্মান, জেরুজালেম ও বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। খবর এএফপির।

মার্কিন দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেকোনো সময় আকস্মিকভাবে বিমানের ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ বা যাতায়াত ব্যাহত হতে পারে। তাই নাগরিকদের ফ্লাইটের সময়সূচি চেক করতে ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সে দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ সম্প্রতি সেগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে থাকা নাগরিকদের নিকটবর্তী বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান জেনে রাখতে বলা হয়েছে।

জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ইরান সরকারের সিদ্ধান্ত অননুমেয়। কোনো ধরনের উসকানি বা পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই তারা এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে। এমনকি পূর্বে কখনো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি এমন এলাকাতেও (যেমন মিশর) তারা তাদের হামলার পরিধি বাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৯ জুলাই) মিশরের একটি বন্দরে নোঙর করা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাস জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যার তদন্ত চলছে।

এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর পালটা অভিযোগ তুলেছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ‘যে দেশই অপরাধী ও আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ঢাল হিসেবে কাজ করবে, তারা যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।’

কয়েক দিনের বিরতির পর চলতি সপ্তাহে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে রাতভর পালটাপালটি গোলাগুলি চললেও গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত থেকে শনিবার (১ আগস্ট) পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও পুরো অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিঘাত করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *