ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের দিনের দুপুর। সারা দেশে ঘরে ঘরে পোলাউ-মাংসসহ বাহারী রান্নার আয়োজন। কিন্তু নদীতে ভাসমান মান্তা সম্প্রদায়ের নৌকায় নেই ঈদ আনন্দ। প্রায় সব নৌকায়ই রান্না হচ্ছে নদী থেকে ধরা মাছ। কোনো কোনো নৌকায় ডাল-ভাত। দেশের সব পরিবারের শিশুরা যখন পোলাউ-মাংস খাচ্ছে, তখন মান্তা শিশুরা নদীর মাছ কিংবা ডাল-ভাত খাওয়ার প্রহর গুনছে।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বগী তুলাতলা খালে শতাধিক মান্তা পরিবার নৌকায় বসবাস করে। তারা তেঁতুলিয়া নদী থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। নদীতে মাছ পেলে চুলায় আগুন জ্বলে। মাছ না পেলে খেয়ে না খেয়ে কাটে দিন। তাই ঈদের দিনটাও তাদের কাছে অন্যসব দিনের মতোই।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা। পুরোনো পোশাকে নৌকায় খেলছে শিশুরা।
নৌকায় রান্না করছেন হোসনেয়ারা বেগম (৩৯)। নৌকায় পেছনের দিকে ছোট চুলায় ভাত বসিয়ে একটি পাতিলে ডাল ধুয়ে নিচ্ছেন। অদূরেই ডাল-ভাতের অপেক্ষায় শিশু সন্তান জয়নব (১২) ও রাসেল (৭)।
হোসনেয়ারা জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী জেলে। তাদের জায়গা জমি নেই। নৌকায় বাস করেন। কয়েকদিন ধরে নদীতে তেমন মাছ পাচ্ছেন না। যেকারণে ঈদে কোনো বাজার করতে পারেননি। সন্তানদের জন্যও কিছু করতে পারেননি।
মান্তা জেলে শহিদ সরদার বলেন, আমাগো জন্ম নৌকাত, থাহিও নৌকাত। আমরা অন্যকোনো কামকাজ পারি না। মাছ পাইলে খাই, না পাইলে খেয়ে না খেয়ে দিন কাডে। আমাগো ঈদের দিন আর অন্যদিন একই।
৯ বছরের মান্তা শিশু জান্নাতুল বলে, ঈদের দিন ঘুরতে মন চায়, পোলাউ-মাংস খেতে মন চায়। কিন্তু আমাগো মা-বাপের টাকা নাই। তাই ঘুরতেও পারি না, পোলাউ-মাংসও খেতে পারি না।
মান্তা নারী চম্পাজান বিবি বলেন, ‘তরের (তীরের) মানুষ কোরবানি দেয়, হ্যারা ভালা-মন্দ খায়, হ্যাগো পোলাপান আনন্দ-ফূর্তি করে। আমাগো কোরবানি দেয়ার তৌফিক নাই, আমরা দেই না। কেউ আমাগো গোস্ত দেয় না, খবরও নেয় না। ডাইল-ভাত খাইয়া আমাগো দিন কাডে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদার বলেন, যাদের জেলে কার্ড আছে তারা ভিজিএফের চাল পায়। আর ঈদ উপলক্ষে অনেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এ বাইরে পরিষদ থেকে কোনো সহায়তা দেওয়ার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, খোঁজ নিয়ে সহায়তা করা হবে।