পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইনডোরে মোট দুই হাজার ৩২৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ঈদের আনন্দের মাঝেও এই হাসপাতালে সব ধরনের জরুরি চিকিৎসা সেবা পুরোদমে অব্যাহত রাখা হয়েছে। রোগীদের সার্বিক সুরক্ষায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্যাথলজি ও এক্স-রেসহ অন্যান্য জরুরি বিভাগগুলোও সচল রয়েছে। এর পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সব রোগীর জন্য বিশেষ উন্নতমানের খাবারের (ঈদ মেন্যু) ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরের দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন জরুরি ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে রোগীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে পরিবেশন করা উন্নতমানের খাবার সশরীরে পর্যবেক্ষণ করেন। ঢামেকের এই সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তিনি গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে উৎসবের দিনেও ডিউটি করা চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে কুশল ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
ঈদের বিশেষ এই হাসপাতাল পরিদর্শনে আরও অংশ নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, উপপরিচালক ডা. মো. আশরাফুল আলম এবং সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা প্রমুখ।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ঢাকা মেডিকেল পরিবার তাদের সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে রোগীদের সেরা সেবা নিশ্চিত করতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। ঈদ কিংবা দেশের যেকোনো বড় জাতীয় ছুটিতেও নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে নিরলস সেবা দিয়ে যান এখানকার চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা। ঈদ উপলক্ষে মেডিকেল কলেজের এই বিশেষ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতি দেখে তিনি ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকা কিংবা ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যেকোনো সাধারণ মানুষের কাছে জটিল রোগের চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল এখনও শেষ ভরসার জায়গা। ঈদের এই ছুটির দিনেও বিছানা খালি না থাকলেও মানবিকতার সর্বোচ্চ বিবেচনায় আমরা কোনো জটিল রোগীকে সেবা না দিয়ে ফেরত পাঠাইনি।