বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে নাটকীয় হারে শেষ হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্নযাত্রা! ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলের প্রধান কোচ জ্লাতকো দালিচ। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পরাজয়ের জন্য রেফারির সিদ্ধান্তকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না।
টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর পর্তুগাল একটি পেনাল্টি পায়। সেই সুযোগ থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের গোলে জয় নিশ্চিত করে পর্তুগাল।
তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একবার বিতর্ক তৈরি হয়। যোশকো গভার্দিওল বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরানোর উল্লাসে মাতলেও ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, বলটি ইগর মাতানোভিচের গায়ে লেগেছিল। সে কারণে গভার্দিওল অফসাইড অবস্থানে ছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেন নরওয়ের রেফারি এসপেন এসকাস। ফলে গোলটি বাতিল হয় এবং শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দালিচ বলেন, ‘রেফারিং খুবই খারাপ হয়েছে। আমাদের আরও কয়েকটি ফ্রি-কিক পাওয়া উচিত ছিলো।’
তবে পরক্ষণেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এই কোচ। তিনি বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়া হেরেছে। আমি কোনো অজুহাত খুঁজতে চাই না। আমরা চাইলে ম্যাচটা আরও আগেই জিতে নিতে পারতাম।’
দালিচের মতে, প্রথমার্ধে তার দল প্রত্যাশামতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে খেলার নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিলেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না। ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় হওয়া ক্রোয়েশিয়া এবার কোনো পদক ছাড়াই বিদায় নিল।
এই ম্যাচটি সম্ভবত অধিনায়ক লুকা মদরিচের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচও। ৪০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার দীর্ঘদিন ধরে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার।
মদরিচকে নিয়ে আবেগাপ্লুত দালিচ বলেন, ‘সম্ভবত এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। এভাবে তার বিশ্বকাপ শেষ হওয়ায় আমার খুব খারাপ লাগছে।’
তবে একটি প্রজন্মের বিদায় মানেই ক্রোয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ অন্ধকার নয় বলে বিশ্বাস করেন এই কোচ, ‘ক্রোয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি মোটেও উদ্বিগ্ন নই। আমাদের অনেক প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার উঠে আসছে। আজকের ম্যাচেও তাদের কয়েকজন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।’
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য কোনো ইঙ্গিত দেননি দালিচ। ২০১৭ সাল থেকে ক্রোয়েশিয়ার দায়িত্বে থাকা এই কোচ শুধু বলেছেন, ‘পরবর্তী বিশ্বকাপে কী হবে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন। দেশে ফিরে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’
এসএন/পিডিকে