ব্যালন ডি’অর নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এমবাপ্পে, ‘আমার চেয়ে ভালো কেউ নেই’

গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ফ্রান্স জাতীয় দল—কোনো জার্সিতেই কোনো শিরোপার স্বাদ পাননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। দলীয় সাফল্য না মিললেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে মৌসুমটি দারুণ কেটেছে এই ফরাসি তারকার।

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ ১৫টি এবং লা লিগায় সর্বোচ্চ ২৫ গোল করেছেন তিনি। এরপর বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে দল বিদায় নিলেও এক আসরে সর্বোচ্চ ১০ গোলসহ টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ ২২ গোলের মালিক এখন তিনি।

সম্প্রতি ব্যালন ডি’অরের আলোচনা সামনে আসতেই এই ফরাসি অধিনায়কের চোখধাঁধানো ব্যক্তিগত অর্জনের পরিসংখ্যানগুলো জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। দলগতভাবে কোনো ট্রফি জিততে না পারলেও মর্যাদাপূর্ণ এই ব্যক্তিগত পুরস্কারটি জেতার ব্যাপারে নিজের প্রবল আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন এমবাপ্পে।

ফ্রান্সের বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘ফ্রান্স ফুটবল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, ‘অনেকেই বলছে যে, আমি ক্লাব কিংবা দেশের হয়ে কোনো ট্রফি জিতিনি। কিন্তু এটি তো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি পুরস্কার। আমি তো কখনো দেখিনি যে ব্যালন ডি’অর বিজয়ী সবার সর্বসম্মত ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।’

এর আগেও একবার ব্যালন ডি’অর নিজের প্রাপ্য দাবি করায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এমবাপ্পে। তবে সেই অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি তিনি, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ বছর আমিই এটি (ব্যালন ডি’অর) জিততে পারি। এটি আমার অন্যতম প্রধান এবং স্বল্পমেয়াদী একটি লক্ষ্য।’

ব্যালন ডি’অর সাধারণত সাধারণ মানের খেলোয়াড়দের দেওয়া হয় না—এমন মন্তব্য করে নিজের দাবিকে আরও জোরালো করেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। এমবাপ্পে বলেন, ‘কেউ কি কখনো শতভাগ ভোট পেয়ে এটি জিতেছে? তার মানে সব সময়ই এমন কেউ না কেউ থাকবেন, যিনি মনে করবেন বিজয়ী ব্যক্তিটি এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য নন।’

এমবাপ্পের এই ধারণা তৈরি হয়েছে কেনো, সেটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যালন ডি’অর নিয়ে আমার এই ধারণা তৈরি হয়েছে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্বর্ণযুগ থেকে। এটি সাধারণ খেলোয়াড়দের জন্য নয়, এটি তাদের দেওয়া হয় যারা অন্যদের চেয়ে একেবারেই আলাদা। আমি মনে করি, এ বছর আমি এমন কিছু করে দেখিয়েছি যা সবার চেয়ে আলাদা, তাই আমার বিশ্বাস আমি এটি জিততে পারি।’

গত মৌসুমে মাঠে নিজের পারফরম্যান্সের কথা তুলে ধরে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার চেয়ে ভালো পারফর্ম করেছে এমন কোনো খেলোয়াড় গত মৌসুমে ছিল না। আমরা অর্জনের কথা বলছি। বিশ্বের সব সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে আয়োজিত বড় বড় প্রতিযোগিতায় এত গোল করা এবং অবশ্যই বিশ্বকাপের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আধিপত্য দেখানো সহজ নয়। এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া—ছুটির পুরোটা সময়জুড়েই মানুষ আমাকে নিয়ে এসব কথাই বলেছে।’

লিওনেল মেসির রেকর্ড ভাঙার অনুভূতি প্রকাশ করে  ফরাসি ফরোয়ার্ড বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের গুরুত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করা বেশ কঠিন। এটি বড় তারকা এবং ফুটবল ইতিহাসের সেরাদের মঞ্চ। আর মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এটি ভেবে ভালো লাগে যে, আমিই এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। লিও মেসির কাছ থেকে আমি এই রেকর্ডটি কেড়ে নিয়েছি, যা ব্যাপারটিকে আরও বেশি বিশেষ করে তুলেছে। অনেকের কাছেই তো মেসি ও রোনালদো ইতিহাসের সেরা দুই খেলোয়াড়। তাদের পাশে নিজের নাম লেখাটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *