মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে চলমান ইরান যুদ্ধ নিরসনে এই দুই পরাশক্তির আলোচনা থেকে কোনো ইতিবাচক সংকেত আসে কি না, মূলত সেই প্রতীক্ষায় রয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্সের।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের (আকরিক সোনা) দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স স্থির হয়েছে ৪ হাজার ৭০৭ দশমিক ০৮ ডলারে। অন্যদিকে, আগামী জুন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন সোনার ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭১৩ দশমিক ৮০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইয়েল্ড) কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদমুক্ত সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ ও মূল্য দুই-ই বেড়েছে।
বুলিয়ন মার্কেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বেইজিংয়ে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফলের ওপর সোনার পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে শুরু হওয়া ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ অবসানের জন্য ট্রাম্প বেইজিংয়ের সহযোগিতা চাইবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাইওয়ান ইস্যুতে শি জিনপিংয়ের কড়া হুঁশিয়ারি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর খবর আসায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে তীব্র মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে মার্কিন সিনেট সম্প্রতি কেভিন ওয়ারশকে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী সুদের হার কমানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বেশ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে অ-লভ্যাংশকারী ধাতু হিসেবে সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়, তবে বর্তমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সোনা মজুত রাখাকেই নিরাপদ মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়লেও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে কিছুটা মন্দা দেখা গেছে। আজ স্পট সিলভারের (রুপা) দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৭ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২ হাজার ১২৬ দশমিক ৯০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৪৯৮ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ভোক্তা দেশ ভারতে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পর দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের চাহিদা ব্যাপক কমেছে। ফলে দেশটির বাজারে স্পট গোল্ডের ডিসকাউন্ট বা ছাড়ের পরিমাণ আউন্স প্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।