এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা ভারতীয় রুপি

চলতি ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে খনিজ তেলের চড়া দাম অব্যাহত থাকায় এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রা বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশেষ করে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা ‘রুপিয়াহ’ ও ভারতের ‘রুপির’ ওপর চাপ বেড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার পুঁজি তুলে নেওয়ার কারণে রুপির মান ৬ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রকাশিত রয়টার্সের এক নতুন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে চলতি বছরে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় রুপি। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রুপির মান কমেছে ৬ শতাংশেরও বেশি। মূলত ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতের শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) ডলারেরও বেশি পুঁজি তুলে নিয়েছেন, যা গত বছরের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ডিবিএস ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে না কমলে কিংবা বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগের প্রত্যাবর্তন না ঘটলে রুপির এই পতন ঠেকানো কঠিন হবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনের মাঝামাঝি সময় থেকেই রুপির ওপর এই মন্দার ধারা বজায় রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়াহ

চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহর মান প্রথম বারের মতো ১৭ হাজার ৫০০-এর মনস্তাত্ত্বিক সীমা পেরিয়ে ১৭ হাজার ৫৩৫-এ ঠেকেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ১০ জন বাজার বিশ্লেষকের ওপর করা এই জরিপ বলছে, রুপিয়াহর ওপর মন্দার এই চাপ ২০২২ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ আর্থিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আগে থেকেই চিন্তিত ছিলেন, যার ওপর নতুন আঘাত হেনেছে তেলের বাড়তি দাম। 

গ্লোবাল এক্স ইটিএফস অস্ট্রেলিয়ার ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট বিলি লেউং জানান, জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হওয়ায় তেলের এই চড়া মূল্য ইন্দোনেশিয়ার চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার’ মুদ্রা ধরে রাখার ক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলছে। তবে ব্যাংকটির ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, রুপিয়াহর বিনিময় হার স্থিতিশীল করতে তারা বাজারে ‘স্মার্ট ইন্টারভেনশন’ বা বিশেষ হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখবেন।

অন্যান্য এশীয় মুদ্রার মিশ্র চিত্র

রুপিয়াহ ও রুপির অবস্থা শোচনীয় হলেও এশিয়ার অন্যান্য কিছু মুদ্রার ওপর থেকে মন্দার চাপ কিছুটা কমেছে। সেমিকন্ডাক্টর, মেমোরি চিপ ও প্রযুক্তি খাতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ভালো আয়ের সুবাদে দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বেড়েছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ান ওন এবং তাইওয়ান ডলারের ওপর চাপ গত ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। থাই বাথের ওপর চাপও মার্চের পর কিছুটা শিথিল হয়েছে, যদিও জ্বালানির ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব উদ্বেগে চলতি বছর বাথের মান ২ দশমিক ৭২ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরের ডলার ও মালয়েশিয়ান রিংগিতের ক্ষেত্রে আশাবাদের পারদ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপদ অর্থনৈতিক নীতি ও মালয়েশিয়া নিজে একটি তেল-গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই দুটি মুদ্রা বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *