বিশ্বকাপ মাতানো ১০ আফ্রিকান তারকা

বিশ্বকাপের আলো ঝলমলে মঞ্চে এবার নিজেদের সামর্থ্যের নতুন বার্তা দিয়েছে আফ্রিকা। প্রতিভা, লড়াই আর দারুণ পারফরম্যান্সে মহাদেশটির ফুটবলাররা কেড়েছেন ফুটবলপ্রেমীদের নজর। গোলপোস্টের নিচে ভোজিনহার বীরত্ব, ইয়ান দিয়োমান্দের গতির ঝড়, ইসমাইলা সারের গোলের ক্ষুধা কিংবা ইয়োয়ানে উইসার কার্যকর উপস্থিতি সবমিলিয়ে আফ্রিকার তারকারা বিশ্বকাপে ছড়িয়েছেন নিজেদের আলো। ফিফার বাছাই করা সেই আলো ছড়ানো ১০ আফ্রিকান তারকার গল্প নিয়েই এই আয়োজন।

ভোজিনহা (কেপ ভার্দে)

বিশ্বকাপের আগে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না ভোজিনহা। তবে স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক অভিষেক ম্যাচে দুর্দান্ত গোলকিপিং করে ফুটবল বিশ্বে নিজের পরিচয় তৈরি করেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। একের পর এক অসাধারণ সেভ করে তিনি আটকে দেন পরবর্তীতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনকে। এরপর উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার মতো অভিজ্ঞ দলের বিপক্ষেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন তিনি।

ইয়ান দিয়োমান্দে (আইভরি কোস্ট)

আইভরি কোস্ট প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার পেছনে বড় অবদান ছিল ইয়ান দিয়োমান্দের। মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে এসে আরবি লাইপজিগের এই উইঙ্গার গতি, ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতায় নজর কাড়েন। তার বিস্ফোরক গতি ও সাহসী ফুটবল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে নিয়মিত চাপ তৈরি করেছে।

আমাদ দিয়ালো (আইভরি কোস্ট)

আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আমাদ দিয়ালো। শুরুর একাদশ কিংবা বদলি দুই ভূমিকাতেই দলের জন্য কার্যকর ছিলেন তিনি। ইকুয়েডরের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার পর নরওয়ের বিপক্ষেও দৃষ্টিনন্দন ফিনিশিংয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই ফরোয়ার্ড।

আজেদ্দিন উনাহি (মরক্কো)

মরক্কোর মাঝমাঠে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আজেদ্দিন উনাহি। কাতার বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও বল নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীলতা ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতায় নজর কাড়েন তিনি। কানাডার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তার জোড়া গোল মরক্কোকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে।

ইসমাইল সাইবারি (মরক্কো)

বিশ্বকাপে শুরু থেকেই আলো ছড়িয়েছেন ইসমাইল সাইবারি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে প্রথম সিএএফ খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭১ সেকেন্ডে গোল করে দ্রুততম গোলের তালিকাতেও জায়গা করে নেন এই ফরোয়ার্ড।

ইসমাইলা সার (সেনেগাল)

সেনেগালের আক্রমণভাগের অন্যতম বড় শক্তি ছিলেন ইসমাইলা সার। চার ম্যাচে চার গোল করে বিশ্বকাপে আফ্রিকার সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। ক্রিস্টাল প্যালেসের এই উইঙ্গার নিজের গতি, শক্তি ও সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষের রক্ষণে বারবার সমস্যা তৈরি করেছেন।

পাপে গেয় (সেনেগাল)

মাঝমাঠে সেনেগালের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় ছিলেন পাপে গেয়। বক্স টু বক্স ভূমিকায় পুরো মাঠজুড়ে তার পরিশ্রম, বল নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নজর কেড়েছে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান তিনি।

ইমাম আশুর (মিশর)

মিশরের হয়ে বিশ্বকাপে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন ইমাম আশুর। বেলজিয়ামের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ পর্বেও গোল করে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই মিডফিল্ডার।

ইয়োয়ানে উইসা (ডিআর কঙ্গো)

দীর্ঘ চোটের পর বিশ্বকাপে ফিরে দুর্দান্ত ফর্ম দেখান ইয়োয়ানে উইসা। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ডিআর কঙ্গোকে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। পর্তুগালের বিপক্ষেও গোল করে তিন গোল পূর্ণ করেন এবং দেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

ইব্রাহিম মাজা (আলজেরিয়া)

আলজেরিয়ার পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো না হলেও তরুণ ইব্রাহিম মাজা নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন। জর্ডানের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হন ২০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। পুরো টুর্নামেন্টে ১৪টি সফল ড্রিবল করে তিনি অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে নজর কাড়েন।

আফ্রিকার এই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে মহাদেশটির ফুটবলের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেছে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যেও তাদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আফ্রিকান ফুটবলাররা ভবিষ্যতের জন্য নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *