বিদেশি এজেন্ট দিয়ে দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা চলছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একটি মহল বিদেশি এজেন্ট দিয়ে বাংলাদেশকে আবারও অস্থির করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সভা কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ অভিযোগ করেন।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের দোসররা এখনো নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। তারা বিদেশি অপশক্তির সহায়তায় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্বকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছিল বলেই বাংলাদেশিরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারছে এবং উচ্চ পদে বসতে পারে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। সব ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার বিরোধী ক্ষোভের বিস্ফোরণ ছিল মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতো জুলাইয়ের গণবিপ্লবও আমাদের অর্জনের এক অনন্য প্রতীক। জুলাইয়ের আন্দোলন একদিনে গড়ে ওঠেনি। ২০০৯ সালের পর থেকে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন, গুম, হত্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ফলে মানুষের মনে যে ক্ষোভ জমা হয়েছিল, তা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেভাবে রাজপথে নেমে এসে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। জুলাই অভ্যুত্থানে যারা চোখ, হাত, পা হারিয়েছেন কিংবা শহীদ হয়েছেন, তাদের এ আত্মত্যাগ ও অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিপ্লবের ক্ষেত্রে বিশ্বের কাছে এক অন্যান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ৫ আগস্ট জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠনের শপথ নিচ্ছি। সাধারণ মানুষের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। দুর্নীতিমুক্ত এবং সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত হবে।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খোরশেদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম আহসানুল আজিজ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *