বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ হলো না আর্জেন্টিনার। দেশটির জার্সিতে প্রায় দুই দশকের বর্ণাঢ্য যাত্রার শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি।
ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের সঙ্গে সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে-জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই কি এই কিংবদন্তির শেষ ম্যাচ?
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর ৩৯ বছর বয়সী এই তারকার আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা না দিলেও অনেকের ধারণা, আলবিসেলেস্তেদের হয়ে এটিই হয়তো ছিল তার শেষ ম্যাচ!
ফাইনালে স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের বিপক্ষে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি মেসিকে। পুরো ম্যাচে তাকে কার্যকরভাবে বলের বাইরে রাখে প্রতিপক্ষ। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ-সব জায়গাতেই স্প্যানিশদের কৌশলী মার্কিংয়ের কারণে ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার।
পরবর্তী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে চার বছর পর, তখন মেসির বয়স দাঁড়াবে ৪৩। সেই বয়সে বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা বাস্তবতার বিচারে খুবই ক্ষীণ। তবে ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায় তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শারীরিক সক্ষমতা, ফর্ম এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত-এই তিন বিষয়ই নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ভবিষ্যৎ!
এই বিশ্বকাপে আরেকটি আলোচিত বিষয় ছিল গোলের রেকর্ড নিয়ে মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। টুর্নামেন্ট চলাকালে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠেছিলেন মেসি। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে ২২ গোল নিয়ে আবার শীর্ষস্থান দখল করেন এমবাপে। মেসির গোলসংখ্যা থেমে থাকে ২১-এ।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রতিভার ঝলক দেখানোর পরও কোয়ার্টার ফাইনালে তাকে মাঠে নামানো হয়নি। এরপর ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা, ২০১৪ বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের হতাশা তাকে ঘিরে সমালোচনা আরও বাড়িয়ে তোলে। সেই হতাশা থেকেই ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি।
তবে সেই সিদ্ধান্ত বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জাতীয় দলে ফিরে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে বদলে যায় মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গল্প। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, এরপর ফিনালিসিমা এবং ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেন তিনি। পরে ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাও জিতে আর্জেন্টিনাকে আরও একটি শিরোপা এনে দেন। ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোলের পাশাপাশি একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি ফিনালিসিমা-জাতীয় দলের হয়ে তার অর্জনের তালিকা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সমৃদ্ধ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই-স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের পরাজয়ই কি আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে? যদিও এ বিষয়ে আশাবাদী সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তার বিশ্বাস, মেসি যত দিন খেলবেন, তত দিন ফুটবলপ্রেমীরাই লাভবান হবেন। আর যেদিন তিনি বুটজোড়া তুলে রাখবেন, সেদিন ফুটবল বিশ্বের জন্য সেটি হবে এক আবেগঘন বিদায়ের মুহূর্ত!
এসএন/পিডিকে