যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়া হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার চলাকালে তিনি কারামুক্ত থাকতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন দেশটির এক বিচারক।
নিজের নামের আদ্যক্ষর ‘জেওএইচ’ নামে পরিচিত সাবেক এই প্রেসিডেন্ট গত ২৬ জুলাই দেশে ফেরেন। ট্রাম্প তার ৪৫ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে ক্ষমা ঘোষণার প্রায় আট মাস পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। খবর এএফপির।
২০১৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে অর্থায়নের জন্য দুই মিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত হওয়ার পর হার্নান্দেজ হন্ডুরাসে ফেরেন।
বিচার বিভাগের মুখপাত্র কার্লোস সিলভা সাংবাদিকদের জানান, সোমবার অর্থ পাচার ও জালিয়াতির অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার শুনানিতে সভাপতিত্বকারী বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তবে সাবেক প্রেসিডেন্টকে দেশ ছেড়ে পালাবেন না— এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকার দিতে নির্দেশ দেন।
সিলভা বলেন, হার্নান্দেজের বিদেশ সফরেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তার মামলার প্রথম শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১২ আগস্ট।
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে গত নভেম্বরে ট্রাম্প হার্নান্দেজকে ক্ষমা ঘোষণা করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে হার্নান্দেজ অন্যায় বিচারের শিকার হয়েছেন। যদিও ফৌজদারি তদন্তের একটি অংশ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই পরিচালিত হয়েছিল।
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হার্নান্দেজের রাজনৈতিক মিত্র ও রক্ষণশীল প্রার্থী নাসরি আসফুরা বিজয়ী না হলে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পরই ট্রাম্প এ ক্ষমা ঘোষণা করেন। বিরোধীদের জালিয়াতির অভিযোগের মধ্যেই অল্প ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হন আসফুরা।
২০২৪ সালের জুনে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে হার্নান্দেজকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে শত শত টন কোকেন পাচারে সহায়তা করেছিলেন। এ কাজে তিনি মাদক পাচারকারী হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করেছেন।
হার্নান্দেজ যুক্তরাষ্ট্রের মামলা এবং হন্ডুরাসের বিচারিক কার্যক্রম— দুটোকেই ‘রাজনৈতিক নিপীড়ন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। দেশে ফিরে তিনি ঘোষণা দেন, তিনি ‘মাথা নত করবেন না’।
সোমবারের শুনানির আগে হার্নান্দেজ বলেন, আজ আমরা আবারও এই আক্রমণের মুখে ন্যায়বিচারের সামনে দাঁড়িয়েছি।
২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন হার্নান্দেজ। তার পুরো রাজনৈতিক জীবনজুড়েই দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
হার্নান্দেজের দেশে ফেরা হন্ডুরাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতির এ মামলার অন্য কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট পরফিরিও লোবো (২০১০-২০১৪), যার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ ছিল।