বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া। সেই ইস্যুতে এবার মুখ খুলেছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তার মতে, পুরো বিষয়টি আরও ভালোভাবে সামলানো যেতো। এ সময় চলতি বছরে আসন্ন বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ মাঠে গড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তামিম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিষয়টি যখন ঘটেছিল, তখন আমিই সম্ভবত প্রথম ব্যক্তি ছিলাম যে প্রকাশ্যে কথা বলেছিল। আগের বোর্ড যেভাবে এটি সামলেছে, তা ঠিক হয়নি। আইসিসি নমনীয় ছিল এবং সমাধানের জায়গা ছিল। আমাদের সেই সমাধানের একটা পথ বের করা উচিত ছিল।’
তামিম পুরো ঘটনাটিকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের জন্য হতাশাজনক বলে মনে করেন। তিনি স্মরণ করেন ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার সময় দেশের মানুষের উচ্ছ্বাসের কথা। তার ভাষায়, ‘মানুষ রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছিল। সেই জয় পুরো একটি প্রজন্মকে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সবাই মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, খালেদ মাহমুদ বা আকরাম খানের মতো হতে চাইতো। অথচ আমরা যথাযথ আলোচনা ছাড়াই একটি বিশ্বকাপের সুযোগ হারিয়ে ফেললাম।’
তামিমের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল ঠিক কখন খেলা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। জবাবে তিনি বলেছেন, ‘গত বছরের হার্ট অ্যাটাকটা আমার জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল। তখন জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা করছিলাম। আর যখন হার্ট অ্যাটাক হলো, তখন মনে হয়েছিল এখানেই সব শেষ। হার্ট অ্যাটাকের পর আমি মনে করি না, এটা চালিয়ে গেলে সার্থক হতো। কারণ খেললেও হয়তো আরও এক-দুই বছরই খেলতে পারতাম। আমার খুব ছোট পরিবার আছে, আর হয়তো ক্রিকেটে ফেরার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতও ছিলাম না।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। এ নিয়ে আসন্ন সিরিজও অনিশ্চয়তার মুখে। তামিম অবশ্য আশাবদী চলতি বছরের সিরিজটা মাঠে গড়াবে, ‘এ বছর ভারতের বিপক্ষে একটি নির্ধারিত সিরিজ রয়েছে। আমি খুব আশাবাদী যে ভারত বাংলাদেশে এসে পুরো সিরিজ খেলবে। এটি এমন একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, যা বাংলাদেশের মানুষ সত্যিই উপভোগ করে। দর্শকরা মাঠে আসে এবং দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট দেখা যায়। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছিল। এই দুই দেশ যখনই খেলে, বিশেষ করে ভারত যখন বাংলাদেশ সফরে আসে, তখন সেটি সবসময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়।’
তামিম মনে করেন, ‘আমি খুবই আশাবাদী। সমস্যা সবসময়ই থাকবে এবং সেগুলো সমাধান করার দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ডগুলোর। এখন আমাদের নতুন ক্রিকেট বোর্ড আছে, একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, আর আমি নিশ্চিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলবে। দিন শেষে ক্রিকেটেরই জয় হওয়া উচিত। অন্য যাই হোক না কেন, ক্রিকেটের জয় হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি সেজন্যই কাজ করতে চাই।’
তিনি আরও যোগ করে বলেছেন, ‘আমি মনে করি না ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কোনো সমস্যা আছে। যদি কোনো সমস্যা থেকেও থাকে, আলোচনা করে তা সমাধান করতে পারি। আমি খুব আশাবাদী যে ভারত বাংলাদেশ সফরে আসবে।’
এসএন/পিডিকে