ফরিদপুরে কৃষ্ণচূড়ার রঙে সেজেছে সড়ক

একদিকে গ্রীষ্মের তাপদাহ অন্যদিকে বৃষ্টিতে আবহাওয়ায় কিছুটা শীতলতা অনুভব করা যাচ্ছে। এমন আবহাওয়ায় নির্মল বায়ুতে নিঃশ্বাস নিতে ও আনন্দ বিনোদন পেতে হাতের কাছেই কৃষ্ণচূড়ার ছায়াতল যেন স্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ বিভিন্নস্থানে চোখে পড়ে কৃষ্ণচূড়া গাছের অপরুপ দৃশ্য।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মধুখালী পৌরসভার শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শোভা পাচ্ছে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ।  বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে গাছের নিচে লাল ফুলগুলো কুড়িয়ে আনন্দ উপভোগ করে। অনেকে বিকেলে বিদ্যালয়ের মাঠে গাছটির সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত।

এখানে ছবি তুলতে আসা গোলাম মোস্তফা কুটি জানান, গত ২৬ থেকে ২৭ বছর আগে মৃত আলহাজ্ব মজিবুর রহমান সরদার  স্কুলের আঙিনায় গাছের চারাটি রোপণ করেন। সেই ছোট গাছটি আজ ফুলে পরিপূর্ণ। গাছের সৌন্দর্য বিমোহিত করছে প্রকৃতি প্রেমীদের। 

সেলফি প্রেমী কৃষ্ণচূড়ার সুশীতল ছায়াতলের মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলছেন অনেকে। একে অপরের ছবি তুলতে ব্যস্ত তারা। কেউ কেউ নিজেই নিজের, কেউ আবার অন্যের ছবি তুলছেন।

অন্যদিকে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাঝকান্দী থেকে ফরিদপুর জেলার শেষ প্রান্তের কামারখালী গড়াই সেতু পর্যন্ত ৩৫ থেকে  ৪০টি সুশোভিত কৃষ্ণচূড়ার সুশীতল গাছ দেখতে পাওয়া যায়। সবুজ চিকন পাতার ফাঁকে ফাঁকে লাল লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল, দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। কৃষ্ণচূডার লাল ফুল ও সবুজ পাতা এক অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন শোভা পাচ্ছে। কৃষ্ণচূড়ার সুবাস ও সৌন্দর্যে মুখরিত দর্শনার্থীদের নতুন আকর্ষণ এখন এই কৃষ্ণচূড়া। গাছের চারপাশটা যেন ফুলে ফুলে ভরে গেছে। 

সেখানে আসা সোহান, রাকিবসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, মহাসড়কের পাশের এই কৃষ্ণচূড়া গাছটির সৌন্দর্য তাদের দৃষ্টি কেড়েছে। তাই এই সৌন্দর্য উপভোগের মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তুলছেন ছবি।

কবিতা, সাহিত্য, গান ও বিভিন্ন উপমায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের কথা নানা ভঙ্গিমায় এসেছে। শোভা বর্ধনকারী এ বৃক্ষটি দেশের গ্রামবাংলার পাশাপাশি পথে-প্রান্তরেও আজও নাজুক অবস্থায় কোনোরকম টিকে আছে। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এই ফুল এখন সবার অজান্তেই বাঙালির ঐতিহ্যের একটা অংশ হয়ে গিয়েছে। এর সবচেয়ে বড় খ্যাতি হচ্ছে মোহনীয় রক্তিম আভা। সবুজের বুকচিরে বের হয়ে আসা এই লাল ফুল এতটাই বিমোহিত করে যে, এটি দেখা মাত্র পথচারীরাও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হন।  

এই গাছকে ভালবেসে অনেকেই বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র ও রাস্তার দুইপাশে লাগিয়ে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *