পুলিশে দুর্নীতি ও মানবাধিকার প্রশ্নে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির কোনও স্থান নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও ধরনের আপস করা হবে না। 

সোমবার (১১ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন ও মাত্রা পরিবর্তিত হয়েছে। সাইবার ক্রাইম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় একটি বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হবে।” 

তিনি জানান, পুলিশের পেশাদারত্ব বাড়াতে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে দুটি নতুন পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— একটি এলিট ফোর্সের জন্য এবং অন্যটি সাধারণ ফোর্সের জন্য। এলিট ফোর্সের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পৃথক আইন প্রণয়ন করা হবে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জমি প্রাপ্তি সাপেক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।” 

অপারেশনাল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বল প্রয়োগ নীতি অনুসরণে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অপরাধ দমনে কৌশলী হতে হবে, তবে কোনও অবস্থাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না।”  

পুলিশের সেবার মানোন্নয়নে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও অনলাইন জিডিসহ সব সেবা দ্রুততম সময়ে প্রদানের নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি উন্নয়নে ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “৩১ দফার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’— এই মূলমন্ত্র ধারণ করে প্রতিটি থানাকে সেবাকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। আধুনিক পুলিশিং ডকট্রিন অনুযায়ী প্রিভেন্টিভ পুলিশিং বা অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে জোর দিতে হবে।” 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন। 

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *