পুরোনো কৌশল ছেড়ে ‘আক্রমণাত্মক’ সামরিক নীতিতে ফিরছে ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাময়িক হামলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে নিজেদের পুরোনো প্রতিহতকরণ নীতি (ডিটারেন্স মডেল) কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ইরান। আক্রমণ ঠেকানোর জন্য প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে, আক্রমণ ঘটার আগেই তা নস্যাৎ করা এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোকে প্রাধান্য দিয়ে এক নতুন আক্রমণাত্মক নীতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে তেহরান। 

ডাচ থিঙ্কট্যাঙ্কের ইরান বিষয়ক গবেষক ড. হামিদরেজা আজিজির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আজিজি জানান, ইরানের পুরোনো সামরিক কৌশল বারবার মার্কিন এবং ইসরায়েলি আক্রমণ রোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন এই ভাবনার উদ্ভব হয়েছে। নতুন কৌশলে ইরান স্পষ্ট করতে চাইছে, কোনো হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সংকেত পাওয়া গেলেও তা ইরানি সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে পাল্টা পদক্ষেপ ডেকে আনতে পারে। 

ইরানের এই ‘আক্রমণাত্মক সামরিক নীতিতে’ মূলত দুটি মূল উপাদান প্রাধান্য পাচ্ছে—প্রথমটি হলো প্রি-এম্পশন বা আগাম পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের যেকোনো অনুভূত হুমকি বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই তা থামিয়ে দেওয়া। আর দ্বিতীয়টি হলো আনপ্রোপোরশনেট রিট্যালিয়েশন বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিশোধমূলক আঘাত, যেন প্রতিপক্ষের হামলা চালানোর সার্বিক ক্ষতি বা মূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া যায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পদক্ষেপে অংশ নেয়, তবে তা নতুন উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়ে দেবে বলে এক প্রকার চরমপত্রও দিয়ে রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ কর্তারাও নীতিগত এই পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পূর্বের পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক কৌশলে এ ধরনের রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আরেক দফা সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বাড়ার আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *