পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রবেশদ্বারগুলোতে। ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে আজ বুধবারও (২৭ মে) পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ও দূরদর্শী ব্যবস্থাপনার কারণে কোথাও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। ফলে আগামীকাল ঈদকে সামনে রেখে আজ শেষ মুহূর্তেও নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে ঈদযাত্রার শেষ ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৮৯ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে; যা থেকে সেতুতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ টাকা।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ৩০ হাজার ৯৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৮৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সময়ে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ৫০৮টি যানবাহন, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫০ টাকা। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং এদিন মোট টোল আদায় হয়েছে পাঁচ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা।
এর আগের দিন সোমবার (২৫ মে) রাত ১২টা থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। একই সময়ে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন। এতে জাজিরা প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ওইদিন পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় চার কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।
আজ সকাল থেকেই পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে টোল প্লাজায় অতিরিক্ত লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেন ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতার কারণে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে টোল প্লাজার সক্ষমতা বাড়ানো, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সদস্যরা মহাসড়কে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঘরমুখো মানুষ জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়েতে দীর্ঘ যানজট না থাকায় তারা খুব দ্রুত সময়ে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।