নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া শিক্ষক বরখাস্ত

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে প্রক্সি নিয়োগ পরীক্ষা দিতে গিয়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জুয়েল রানা।

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে প্রক্সি নিয়োগ পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাজা হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে আয়োজিত ‘জারিকারক’ পদের লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে তিনি ঢাকার লালবাগে গ্রেপ্তার হন। পরে এ অপরাধে তাকে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই সহকারী শিক্ষক হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার প্রায়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জুয়েল রানা।

জানা যায়, গত ২০ জুন ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (লালবাগ বিভাগ, ডিএমপি) আদালতে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের জারিকারক পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মূল পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেন জুয়েল রানা। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নজরে এলে তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় জুয়েল রানাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে কারাগারে পাঠান।

জুয়েল রানার এই অপরাধের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসের নজরে না আনার জন্য তথ্য গোপন করে অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কথা জানান অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। তবে সংবাদমাধ্যমে বরাতে বিষয়টি অবগত হন উপজেলা শিক্ষা অফিস। বিষয়টি জেনেই দ্রুত শোকজ নোটিশ পাঠান অভিযুক্ত শিক্ষককে। কিন্তু শোকজ নোটিশের জবাব না পাওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে একটি লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি অপরাধে গ্রেপ্তার বা দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নিয়ম রয়েছে। সে বিধিমালা অনুযায়ী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক আদেশে অভিযুক্ত শিক্ষক জুয়েল রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি রক্ষা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষক জুয়েল রানার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। তারা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এবিষয়ে প্রায়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, জুয়েল আমার কাছ থেকে দুই দিনের ছুটি নেয়। এরপর ছুটি শেষে বিদ্যালয়ে না আসায় আমি তার পরিবারের কাছে খোঁজ নিতে যাই। তখন তার বাবা বলেন, জুয়েল অসুস্থ সে রংপুর হাসপাতালে ভর্তি। পরে বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন শুনছি তিনি নাকি প্রক্সি পরীক্ষা দিতে গিয়ে ঢাকায় আটক হয়েছেন। এর বেশি কিছু আমি জানি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *