দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি সৌন্দর্য, তারুণ্য আর ফিটনেসের জন্যও বরাবরই আলোচনায় থাকেন। নিজের ফিটনেস ধরে রাখার পেছনের রহস্য কী—এ প্রশ্ন ভক্তদের মনে বহুদিনের। সম্প্রতি সেই রহস্যের কিছুটা উন্মোচন করলেন নিজেই।
সম্প্রতি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’–তে ‘পদ্মা’ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন জয়া। তবে পর্দার মতো বাস্তব জীবনেও নিজেকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে তিনি মেনে চলেন কিছু নিজস্ব অভ্যাস, যা অনেককেই অবাক করতে পারে।
‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র চরিত্র পদ্মা তথা জয়ার জিমে বড় আলস্য। সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার মাসকয়েক আগে থেকে জিম করা শুরু করেন তিনি। তখন পিলাটিজ বা শারীরচর্চা করে ক্যালোরি ঝরান জয়া। অর্থাৎ চিরাচরিত ফিটনেস রুটিনের প্রতি ঝোঁক নেই তাঁর। কিন্তু জনপ্রিয় শারীরচর্চা থেকে খানিক দূরে থাকলেও মাঠঘাট, চাষের খেত তাঁকে সুস্থ রাখে, আনন্দে রাখে।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার ডট কমকে জয়া বলেছেন, ‘জিম করা যে দরকার, তা অস্বীকার করি না। কিন্তু নিয়মিত জিম করা হয় না আমার। আসলে যে যার মতো করে ফিট থাকার চেষ্টা করেন। আমি যেমন চাষ করি। সে সময়ে মাটি তৈরি করা থেকে শুরু করে, প্রয়োজনে কোদাল দিয়ে মাটি কোপানোর কাজও করি।’
জয়ার অনুরাগীরা জানেন, বাংলাদেশে তার বাড়িতে হরেক সবজির চাষ হয়। নিজ হাতে ফলানো রাসায়নিকমুক্ত শাকসবজি দিয়েই দৈনন্দিন খাবারের পদ রান্না করতে ভালোবাসেন তিনি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই তিনি এই অভ্যাস গড়ে তুলেছেন।
তবে মাঝে মাঝে যে বাইরের খাবার খান না, তা নয়। পিৎজা তার খুবই পছন্দের খাবার। কিন্তু জাঙ্ক ফুডের প্রতি তত আগ্রহ নেই অভিনেত্রীর। বাড়িতে তৈরি সবজি দিয়ে রান্না খাবারই বেশি পছন্দ তার। জয়ার কথায়, ‘যদি জাঙ্ক ফুড খেয়েও ফেলি, তা নিয়ে মানসিক চাপে ভুগি না আমি। কারণ, মাঝে মাঝে নিজের পছন্দের খাবার উপভোগ করাও জরুরি বলে মনে করি। খুব বেশি সতর্ক হয়ে গেলে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা উপভোগ করবেন কীভাবে!’
পুষ্টিবিদদের মতে, বাগান করা বা মাটির কাজ করা অন্যতম সেরা কায়িক পরিশ্রম। তা ছাড়া সূর্যালোকের সংস্পর্শে শরীরে ভিটামিন ডি’র মাত্রা বেড়ে যায়। এই ভিটামিন শরীরের হাজারো কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।