বিশ্বকাপের মুল মঞ্চে মাঠে নামার আগে শেষবার নিজেদের ঝালিয়ে নিতে মিসরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। মূলত ম্যাচটি ছিল সেলেসাওদের ডিফেন্স লাইনের সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে বের করা। কিন্তু সেখানেই দলটি পড়েছে বড় বিপদে।
শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে ব্রাজিল ঠিকই। কিন্তু ম্যাচের মাঝে পেয়েছে বড় দুঃসংবাদও। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ডিফেন্স লাইনের অন্যতম তারকা ধরা হচ্ছে যাকে, সেই ওয়েসলি মাঠ ছেড়েছেন চোট নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে। বেঞ্চে বসেও একই দৃশ্যের অবতারণা করেছেন তিনি।
ব্রাজিলের ডিফেন্স লাইনের এই তরুণ তারকা ইতোমধ্যে সবার নজড় কেড়েছিলেন নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে। বিশেষ করে রাইট-ব্যাকে ডিফেন্স সামলানোর পাশপাশি গতি দিয়ে আক্রমণেও দারুণভাবে সহযোগিতা করছিলেন তিনি। অনেকটা মার্সেলোর পরে আরেকজন গতি সম্পন্ন ডিফেন্ডার পেতে যাচ্ছিল ব্রাজিল।
আসন্ন বিশ্বকাপেও এই ডিফেন্ডারকে ধরা হচ্ছিল ব্রাজিলের তুরুপের তাস। কিন্তু মিসরে বিপক্ষে মাঠে নেমে ম্যাচের মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় বাম কুঁচকিতে ব্যথা অনুভব করেন ওয়েসলি। এরপর কোচিং প্যানেল আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তার বদলি হিসেবে মাঠে নামান ফ্লামেঙ্গোর দানিলোকে।
ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের এক সপ্তাহ আগেই এই ডিফেন্ডার ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে। যদি ওয়েসলি বাদ পড়েন, তাহলে আনচেলত্তিকে মে মাসের শুরুতে ফিফার কাছে জমা দেওয়া প্রাথমিক তালিকা থেকে একজন খেলোয়াড় বেছে নিতে হবে। মোট ৫৫ জনের দীর্ঘ তালিকায় ১২ জন ডিফেন্ডার রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে মাত্র দুজন রাইট-ব্যাক— বোটাফোগোর ভিতিনহো ও ভাস্কোর পাওলো হেনরিকে।
ম্যাচের পর আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আগামীকাল পরীক্ষার পর মেডিকেল বিভাগ একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (রোগ নির্ণয়) জানাতে পারবে। তার পেশিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং আমাদের আগামীকালকের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
শেষ পর্যন্ত যদি বিশ্বকাপে ওয়েসলিকে না পায় ব্রাজিল, তাহলে সেটি তাদের জন্য বড় এক ধাক্কাই হবে। ইতোমধ্যে চোটের সঙ্গে লড়ছেন দলের পোস্টারবয় নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে নেইমারকে পাওয়া নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।