যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সম্পূর্ণ আস্থার অভাব ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ক্রমাগত উসকানিমূলক আচরণের কারণে ইরান ভেতরে ভেতরে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনাকে টিকিয়ে রাখতে হলে মার্কিন প্রশাসনকে অবশ্যই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘নিয়ন্ত্রণে আনতে’ হবে। খবর আল জাজিরার।
ইতালির তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক লরেঞ্জো কামেল মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ে এক বিশ্লেষণে বলেন, ‘যদিও আমরা দেখেছি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ট্রাম্প ও ইরানি কর্তৃপক্ষের যেকোনো চুক্তিকে নসাৎ করার জন্য লেবাননে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু বরাবরের মতোই মূল সমস্যাটি তৈরি করছেন নেতানিয়াহু।’
লরেঞ্জো কামেল মনে করেন, অন্তত আগামী ইসরায়েলি নির্বাচন পর্যন্ত নেতানিয়াহুকে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ‘অপরিহার্য যুদ্ধকালীন নেতা’র ভূমিকা পালন করে যেতে হবে। নেতানিয়াহু খুব ভালো করেই জানেন, এই ক্রমাগত উত্তেজনা বৃদ্ধি ছাড়া তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ইসরায়েলের ভেতরের বিরোধীরা তাঁকে সহজেই ক্ষমতাচ্যুত করবে।
অধ্যাপক কামেল আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে লাগামহীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়ে চলেছে। এর ফলে তেহরানের মনে ওয়াশিংটনের প্রতি তীব্র আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
অধ্যাপক কামেল বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যতক্ষণ না নেতানিয়াহুকে লেবাননে একটি সত্যিকারের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যেকোনো শান্তি চুক্তি ‘অত্যন্ত নড়বড়ে’ ও অনিশ্চিত থাকবে।