গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় মাঝ আকাশে দুটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ডেনিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন লিয়াজোঁ কর্মকর্তা। অপর হেলিকপ্টারে থাকা এক ব্রিটিশ পাইলট ও একজন গ্রিক সমন্বয়কারী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন।
স্থানীয় সময় রোববার (২ আগস্ট) দেশটির রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বোয়োশিয়া সীমান্ত এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি বেল হেলিকপ্টারের একটি অপরটির রোটরের সঙ্গে ধাক্কা খেলে সেটিতে আগুন ধরে যায় এবং পরে একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
গ্রিক ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকডারমট এভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টার দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনার শিকার হয়।
একটি হেলিকপ্টারের দুই আরোহীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর হেলিকপ্টারের দুই সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্রিক সমন্বয়কারী এবং ডেনিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতিও তিনি সমবেদনা জানান।
দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব বেল হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দেশটির সিভিল প্রোটেকশন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
ওই সূত্র আরও জানায়, দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্রিটিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা সামান্য আহত হয়েছেন। তারা দুজনই সচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, আহত ব্রিটিশ পাইলট দাবানল মৌসুমে দায়িত্ব পালনের জন্য বেসরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্য ও গ্রিসের মধ্যে কোনো সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অংশ ছিলেন না।
গ্রিক সংবাদমাধ্যম একাথিমেরিনি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর জীবিত থাকা দুই আরোহী দ্রুত কর্তৃপক্ষকে সংঘর্ষের খবর দেন এবং উদ্ধারকারীদের দুর্ঘটনাস্থল শনাক্ত করতে সহায়তা করেন।
ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট জন ম্যাকডারমট এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল। তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরও এরিকসন এয়ার-ক্রেন, চিনুক হেলিকপ্টার এবং কানাডেয়ার জলবাহী বিমান ব্যবহার করে দাবানল নিয়ন্ত্রণের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে গ্রিস, ফ্রান্স ও স্পেনজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের বোর্দো ও স্পেনের মাদ্রিদের কাছাকাছি বড় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও পুরোপুরি নিভে যায়নি। ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া প্রায় তিন লাখ মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে গ্রিসে পোর্তো জারমেনো, পসাথা, ফোকিদা, মেগারা এবং কেফালোনিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় গত ৭২ ঘণ্টা ধরে পাঁচ শতাধিক দমকলকর্মী দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।