দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শিগগির বাণিজ্য চুক্তি, বাড়বে রপ্তানি সুবিধা

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ আগস্ট দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি সই হতে পারে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছে। তারা চুক্তির বিষয়ে শেষ পর্যায়ের আলোচনা করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদমন্ত্রী কিম জং-ক্বান বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে টেলিফোনে সিইপিএ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে জানা গেছে।

চুক্তি হলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যে সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি চুক্তিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও কিছু বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা, আইটি, প্রকৌশল, আর্থিক সেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত পণ্য ছাড় এবং ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। আর দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক পণ্য।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক পণ্য আমদানি করা হয়।

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) পর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় বাণিজ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এ চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

সরকার জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *