ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বসবে। সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে; তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
আগামীকাল বিকেল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে আগামীকাল দুপুর ২টায় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের অধিবেশন ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে গত ১১ আগস্ট সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী, দুটি অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি ৬০ দিনের বেশি হতে পারবে না।
গত ১৫ জুলাই সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়। সে হিসাবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কর্মসূচি থাকায় নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই অধিবেশন শুরু হচ্ছে। অধিবেশন শেষে ২১ সেপ্টেম্বর সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে উত্থাপনের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়ে জমা হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) আইন এবং র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনও বিল আকারে উত্থাপনের জন্য শিগগিরই জমা হতে পারে। এসব বিল উত্থাপনের পর চলতি অধিবেশনেই পাস হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অধিবেশন শুরুর আগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিএনপিদলীয় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অধিবেশনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বিরোধী দলের সদস্যরা বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থায় দলীয় নিয়োগের বিষয়েও বিরোধী দল সরব হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।