নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয়ে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে অপহরণ, মারধর ও দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে অপহৃত চালককে আহত অবস্থায় উদ্ধারসহ তাদের ব্যবহৃত একটি পাজেরো জিপ, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ ও ভূয়া ভিজিটিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাইনবোর্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে অবস্থানের সময় এ ঘটনা ঘটে।
কদমতলী এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী সিএনজিচালক আলাউদ্দিনকে (৩৮) একটি পুরোনো পাজেরো জিপ থেকে নামা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে গাড়িতে তুলে নেয়। হাতে থাকা ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ ও লাঠি দেখিয়ে তারা আশপাশের যানবাহনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আলাউদ্দিনকে বিভিন্ন সড়কে নিয়ে ঘুরতে থাকে। পরে চালককে বেধড়ক মারধর করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়, অন্যথায় হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ, সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত নিশ্চিত হয় যে এটি একটি ভুয়া চক্র। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলমের নেতৃত্বে একাধিক দল তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূইঘর এলাকায় পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে জিপটিসহ চক্রের তিন সদস্য—মাহাবুব আলম রায়হান (৩৬), সাদ্দাম কাজী (৩৫) ও নাসিরকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকেই আহত চালককে উদ্ধার করা হলেও কৌশলে অপর একজন পালিয়ে যায়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুবুর আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিল। আসামি মাহাবুবের কাছে ‘ডিজিএফআই ইন্সপেক্টর’ লেখা ভিজিটিং কার্ড ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় এই চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছেন।