‘ডন’ এর সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে নিষিদ্ধ রণবীর সিং

‘ডন ৩’ থেকে রণবীর সিং-এর হঠাৎ সরে দাঁড়ানোকে ঘিরে নতুন করে সরগরম বলিউড। এ ঘটনার জেরে অভিনেতার সঙ্গে কাজ না করার নির্দেশ দিয়েছে ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই)। তবে সংগঠনটির এই সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে কতটা কার্যকর, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে।

বিতর্কের সূত্রপাত ফারহান আখতার পরিচালিত ‘ডন ৩’ ঘিরে। ছবিটি থেকে শেষ মুহূর্তে রণবীর সিং সরে দাঁড়ানোর পর প্রযোজনা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আর্থিক ক্ষতি ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এরপর বিষয়টি নিয়ে রণবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এফডব্লিউআইসিই।

সংগঠনটির সভাপতি অশোক পণ্ডিত দাবি করেন, শুরুতে রণবীর তাদের চিঠির কোনো জবাব দেননি। পরে ই–মেইলে অভিনেতা জানান, এটি চুক্তিগত বিরোধ হওয়ায় এফডব্লিউআইসিইয়ের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তার মতে, এমন বিষয় আদালত বা সালিসি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।

এরপরই প্রকাশ্যে আসে এফডব্লিউআইসিইয়ের ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেকটিভ’। এর ফলে সংগঠনটির আওতাভুক্ত সদস্যদের রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কোনো প্রজেক্টে কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলিউডে যেখানে একটি সিনেমার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক টেকনিশিয়ান, মেকআপ আর্টিস্ট, লাইটিং ক্রু ও স্পটবয় যুক্ত থাকেন, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত শুটিং ও প্রযোজনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংগঠন মূলত চাপ প্রয়োগকারী বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। চুক্তিভঙ্গ, ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক বিরোধের মতো বিষয় শেষ পর্যন্ত আদালত কিংবা সালিসি বোর্ডেই নিষ্পত্তি হয়।

এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক অবস্থানেই রয়েছেন রণবীর সিং। অভিনেতার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রণবীর পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং ‘ডন ৩’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি সম্মান রাখেন। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই নীরব থেকেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পেশাগত আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গেই সামলানো উচিত বলে বিশ্বাস করেন রণবীর। বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা সামনে এলেও তিনি কখনোই প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি।

অভিনেতার টিম জানিয়েছে, ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি রণবীরের এখনো গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে রণবীর আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন কি না, সেটিও এখন আলোচনায়। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ট্রেড ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত যদি একজন শিল্পীর কাজের অধিকার ক্ষুণ্ন করে বা কার্যত কালোতালিকাভুক্ত করার পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে আদালত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে।

এই বিরোধের প্রভাব পড়তে পারে রণবীরের আসন্ন কাজগুলোতেও। হংসল মেহতা প্রযোজিত এবং জয় মেহতা পরিচালিত নতুন পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক থ্রিলারের শুটিং শুরু হওয়ার কথা আগামী আগস্টে। বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে সেই প্রজেক্টের কাজও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *