জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়ম, ৮০ কেজির বদলে মিলছে ৭৫ কেজি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে দুই মাসের মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে কর্মহীন জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেদের জনপ্রতি ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বিতরণ করা হয়েছে ৭৫ কেজি করে। এছাড়া ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণ, প্রকৃত জেলেদের নাম বাদ দেওয়া এবং পরিবহণের নামে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে।

মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশ অভয়াশ্রম রক্ষায় মার্চ ও এপ্রিল মাসে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এই সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য মাসিক ৪০ কেজি হারে দুই মাসে মোট ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৫৫ জন জেলের জন্য ১১৬ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয় উপজেলা খাদ্য বিভাগ। ২৬ ফেব্রুয়ারি এই চাল বিতরণের কথা থাকলেও প্রায় দুই মাস পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ও শনিবার (২৫ এপ্রিল) তা বিতরণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার ও শনিবার ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১ হাজার ২০০ জেলের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রতি ৮০ কেজি চাল দেওয়ার বিধান থাকলেও দুইজনকে একত্রে ১৫০ কেজি (৩ বস্তা) দেওয়া হয়েছে। ফলে জনপ্রতি ৫ কেজি করে চাল কম পেয়েছেন জেলেরা। এ হিসাবে ১ হাজার ৪৫৫ জন জেলের বরাদ্দ থেকে ৭ দশমিক ২৭৫ মেট্রিক টন চাল কম বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।

নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশার মৃধা সরকারি ছুটির দিনে ট্যাগ অফিসার ছাড়াই এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। 

৮নং ওয়ার্ডের জেলে নান্নু মিয়া অভিযোগ করেন, আমাদের ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও মেম্বার দিয়েছে ৭৫ কেজি। বাকি চাল নাকি অন্য জেলেদের দেবে।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জসিম হোসেনের বিরুদ্ধে জেলেদের কাছ থেকে ট্রলার ভাড়া বা পরিবহণ খরচ বাবদ ১০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনি প্রকৃত জেলেদের বঞ্চিত করে নিজের ভাই ও আত্মীয়-স্বজনদের চাল দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জেলে হেলাল হাওলাদার।

একইভাবে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য সাহাবুদ্দিনের অনুপস্থিতিতে সংরক্ষিত নারী সদস্যের স্বামী রিপন খান চাল বিতরণ করেন। সেখানে প্রকৃত কার্ডধারী জেলেদের বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী ও মোটরসাইকেল চালকদের চাল দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কার্ডধারী জেলে সবুজ হাওলাদার ও জাফর ফরাজীসহ অনেকেই।

অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশার মৃধা বলেন, জেলের সংখ্যা বরাদ্দের চেয়ে বেশি। তাই ৫ কেজি করে কম দিয়ে বাকি জেলেদের মধ্যে বিতরণ করেছি। ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা ট্যাগ অফিসার বলতে পারবে। ট্রলার না পাওয়ায় চাল দিতে দেরি হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার বলেন, চেয়ারম্যান দুই মাস পর চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেন। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আমি উপস্থিত থাকতে পারিনি। অন্যদিন বিতরণের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু তা মানা হয়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাদী আমিন বলেন, নিবন্ধিত জেলে প্রায় ১ হাজার ৮০০, বরাদ্দ পেয়েছি ১ হাজার ৪৫৫ জনের জন্য। তাই ৫ কেজি করে কম দিয়ে অন্যদের দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, যে পরিমাণ বরাদ্দ আছে, সেটাই বিতরণ করতে হবে। ৫ কেজি করে কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *