জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে ইকুয়েডরের কূটনীতিক

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে যোগ দিয়েছেন ইকুয়েডরের কূটনীতিক ইভোনে আবাকি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইকুয়েডরের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সাধারণ পরিষদের সভাপতির এক চিঠিতে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি জানানো হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

টোঙ্গার মনোনয়নে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রার্থী হয়েছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক এই সংস্থার মহাসচিব পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ল। বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও জাতিসংঘের বাজেট সংকটের মধ্যেই পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে।

লেবানিজ বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া আবাকি ১৯৯৫ সালের স্বল্পমেয়াদি সীমান্তযুদ্ধের পর ইকুয়েডর ও পেরুর মধ্যে সংলাপ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের দৌড়ে পাঁচ নারী ও তিন পুরুষ রয়েছেন। পর্তুগালের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করবেন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬। এখনো মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ থাকায় শেষ মুহূর্তে আরও প্রার্থী যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মনোনয়নপত্রে টোঙ্গা আবাকির মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন, ওয়াশিংটনে ইকুয়েডরের প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত এবং কাতারে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। 

আবাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমি যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছি। লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্য— দুই অঞ্চলের ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এমন একমাত্র প্রার্থী এবং জাতিসংঘের দুই সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তাকারী একমাত্র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমি যুদ্ধ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জাতিসংঘ সনদের মৌলিক অঙ্গীকারকে নতুন করে কার্যকর করতে প্রস্তুত।’ 

এর আগে আমাজন অঞ্চলের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার একটি ব্যর্থ পরিকল্পনার সঙ্গেও আবাকির নাম জড়িত ছিল। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা নেওয়ার কথা ছিল। তবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া ২০১৩ সালে পরিকল্পনাটি বাতিল করেন এবং পরে ইয়াসুনি ন্যাশনাল পার্কে অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের অনুমতি দেন।

গত মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মহাসচিব পদে প্রার্থীদের সমর্থন যাচাই করতে প্রথমবারের মতো ‘স্ট্র পোল’ বা অনানুষ্ঠানিক ভোট আয়োজন করে। প্রথম দফা ভোটের পর জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা রেবেকা গ্রিনস্প্যান এগিয়ে ছিলেন।

অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, চিলির মিশেল বাশেলেত, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, উগান্ডার ওলার ওতুনু এবং সেনেগালের ম্যাকি সাল। 

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পরিচিতির দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েক মাস ধরে চলতে পারে এমন এই প্রতিযোগিতায় এখনো কোনো প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই।

কূটনীতিকরাও ফলাফল নিয়ে আগাম কোনো ধারণা দিতে চাইছেন না। কারণ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য—এখনও তাদের পছন্দের প্রার্থী সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

নিরাপত্তা পরিষদের মোট ১৫টি ভোটের মধ্যে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় ৯টি ভোট পেলেও, তাকে পাঁচ পরাশক্তির কোনো একটির ভেটো এড়াতে হবে। বর্তমানে এই পাঁচ শক্তিধর দেশের মধ্যে গভীর মতবিরোধ রয়েছে। এই দুই ধাপ পার হতে পারলে প্রার্থীর নাম জাতিসংঘের সব সদস্যরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *