ইউরোপের সমুদ্রগুলোতে তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। এর সরাসরি প্রভাবে চলতি গ্রীষ্মে ভূমধ্যসাগরের তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের (ডব্লিউডব্লিউএ) প্রকাশিত এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করে।
গবেষণার সহলেখক ও বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিষয়ক পদার্থবিদ থমাস ফ্রোলিশার জানান, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণেই ইউরোপের সমুদ্রগুলোর তাপমাত্রা এভাবে বাড়ছে। ডব্লিউডব্লিউএর বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণভিত্তিক তথ্য ও জলবায়ু মডেল বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পশ্চিম ইউরোপের সমুদ্রগুলোতে তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডব্লিউডব্লিউএ সতর্ক করে বলেছে, পানির তাপমাত্রা বাড়ায় অনেক সামুদ্রিক প্রজাতি ঠান্ডা পানির আশায় উত্তরের দিকে চলে যাচ্ছে। এর ফলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল, উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ খামার চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, জুলাইয়ের সবচেয়ে উষ্ণ দুই সপ্তাহে ভূমধ্যসাগরের কিছু অঞ্চলে পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল।
সামুদ্রিক পরিবেশবিজ্ঞানী জন ব্রুনো এ বিষয়ে জানান, পানির তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেই অনেক জীব সহনশীলতার সীমা হারিয়ে মারা যায়। বিশেষ করে প্রবাল প্রাচীরের ক্ষেত্রে মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিই ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য মতে, জুলাইয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বিশ্বের সমুদ্রগুলোর তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের লাগাম না টানলে এই সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ ইউরোপের আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।