রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়িতে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই আবেদন করা হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন প্রসিকিউশনের শুনানি করেন প্রসিকিউর গাজী এমএইচ তামীম। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। এরপর আসামিপক্ষের শুনানির জন্য সময়ের আবেদন জানালে ২ আগস্ট দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
এই মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন- সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এদিন তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিরা হচ্ছেন— ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়ি নামের একটি বাড়িতে ৯ তরুণকে আটকে রেখে সোয়াত, সিটিটিসিসহ গিয়ে তাদের বাসার মধ্যে গুলি করে হত্যা করে। জঙ্গি হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রচার করে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মামলার বিবরণে জানায়, এই ৯ তরুণকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে বহু আগে। কেউ কেউ ডিবি হেফাজতে ছিলেন দুই-তিন মাস ধরে। সেখান থেকে তাদের ধরে নিয়ে রাতে ওই বাসায় জড়ো করা হয়। পরে রাতের বেলা ব্লক রেইডের কথা বলে সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবাই হাজির হন। সেই লোকদের গুলি করে হত্যা করে জঙ্গি হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রচার করেন। সে সময় জঙ্গি নাটক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করার জন্য ইসলামিক ভাবধারার মানুষদের জঙ্গি নাম দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।