চীনের বন্দরে কার্গো জাহাজে আগুন, নিহত ২৫

চীনের একটি বন্দরে নোঙ্গর করা একটি বিদেশি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম। সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শিপিং হাব কিংদাও বন্দরে নোঙ্গর করা বাল্ক ক্যারিয়ার জাতীয় এই জাহাজটিতে আগুন লাগার সময় ৪২ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন আহত ব্যক্তিসহ মোট ১৭ জনকে উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

সিসিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ০৬টা ৩০ মিনিট) জাহাজের ভেতরের আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলা হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এর আগে জানিয়েছিল, জাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে বন্দরে থাকার সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে এই আগুন লাগে, তবে আগুনের কারণ নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

পার্শ্ববর্তী একটি আবাসিক এলাকার একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, তিনি জাহাজটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেছেন, তবে কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনেননি। ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমি দুর্ঘটনাবশত জাহাজটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখি, তবে খালি চোখে কোনো আগুন দেখা যায়নি। আমি কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শুনিনি এবং কোনো গন্ধও পাইনি।’

সিনহুয়া সংবাদের ভিডিওতে দেখানো হয়, ‘ওশান মেলোডি’ নামের একটি বিশাল জাহাজ বন্দরে নোঙ্গর করা আছে এবং বেশ কয়েকজন উদ্ধারকারী কর্মকর্তা এর ডেকে এবং জাহাজের ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছেন। জাহাজের ঠিক সামনে জেটিতে বেশ কয়েকটি ফায়ার ট্রাক এবং অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছিল। 

জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘মেরিনট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯০ মিটার (৬২৩ ফুট) দীর্ঘ ‘ওশান মেলোডি’ লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ার।

চীনের বিখ্যাত টিংতাও বিয়ারের জন্মস্থান কিংদাও একটি প্রধান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক হাব, যা ১৮০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৭০০টিরও বেশি বন্দরের সাথে যুক্ত বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম। কিংদাও বেইহাই শিপবিল্ডিং ইয়ার্ডটি ‘চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং করপোরেশন’-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়।

সিনহুয়া জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। শি জিনপিং বলেছেন, পুরো অঞ্চল এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে এই ঘটনা থেকে গভীর শিক্ষা নিতে হবে এবং সব ধরনের অগ্নিঝুঁকি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত ও সংশোধন করতে হবে। 

নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কারণে গত এক বছরে চীনে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের শিল্প দুর্ঘটনা ঘটেছে।  রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিহত ও ১২ জন আহত হন। হংকংয়ে একটি বিশাল অগ্নিকাণ্ডে একাধিক আবাসিক টাওয়ার ব্লক পুড়ে ১৬৮ জন মারা যাওয়ার পর, চীন গত বছরের নভেম্বরে উচ্চ ভবনগুলোতে অগ্নিঝুঁকি বিরোধী অভিযান শুরু করে।  চলতি বছরের মে মাসে মধ্য চীনে একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৩৭ জন নিহত হন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অন্যতম মারাত্মক শিল্প দুর্ঘটনা।  এছাড়া জুলাই মাসে ফুজিয়ানের একটি জুতা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *