চাবাহার বন্দরের মালিকানা ইরানের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ভারতের

ইরানের কৌশলগত চাবাহার বন্দরে নিজেদের বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের কথা ভাবছে ভারত। আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিশেষ ছাড় বা ওয়েভারের মেয়াদ আগামী শেষ হতে চলছে। ফলে এই বন্দরের বড় অংশের মালিকানা ইরানি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছে ভারত। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের’ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

কেন এই সিদ্ধান্ত?

২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র চাবাহার বন্দরের জন্য ভারতকে বিশেষ ছাড় দিয়ে আসলেও, সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ছাড় নবায়ন না করার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লে ভারতীয় কোম্পানিগুলো বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতেই ভারত তাদের ‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেডের’ (আইপিজিএল) মাধ্যমে থাকা অংশীদারিত্ব স্থানীয় ইরানি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হলো- 

অস্থায়ী মালিকানা হস্তান্তর : ভারত নিজেদের অংশীদারিত্ব ইরানি অংশীদারের কাছে বিক্রি করে দেবে। তবে শর্ত থাকবে ভবিষ্যতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ভারত পুনরায় এই মালিকানা ফিরে পাবে।

অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা : নিষেধাজ্ঞার সময়কালে বন্দরটি একজন ইরানি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত হবে। যাতে কার্যক্রম সচল থাকে এবং ভারতীয় কোম্পানিগুলো সরাসরি দায়ী না হয়।

বিনিয়োগ রক্ষা : চাবাহার বন্দরে ইতোমধ্যে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ভারি যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছে ভারত। এই বিনিয়োগ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্যই এই ‘কৌশলগত পিছুটান’ বা ‘ট্যাকটিক্যাল রিক্যালিব্রেশন’ বেছে নেওয়া হচ্ছে।

নয়াদিল্লি বর্তমানে একদিকে ওয়াশিংটন ও অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পণ্য পাঠানোর জন্য চাবাহার একটি অপরিহার্য পথ। অন্যদিকে, ভারত যদি এই বন্দর থেকে পুরোপুরি সরে আসে, তবে সেই শূন্যস্থান চীন দখল করে নিতে পারে- এমন আশঙ্কাও কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *