চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট, বাসাবাড়ি থেকে শিল্পকারখানায় হাহাকার

চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম গ্যাস সরবরাহ হওয়ায় আবারও তীব্র সংকটে পড়েছে পুরো বন্দর নগরী। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি, উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে। রান্নার চুলা না জ্বলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্প খাত।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) তথ্যমতে, চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে তা কমে প্রায় ২১০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তাজ উদ্দিন ঢালী বলেন, সরবরাহ অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যার ফলে গ্রাহকদের এই দুর্ভোগ।

গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্প খাত। কারখানার বয়লার, চুল্লি ও জেনারেটর পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে না পারায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে চট্টগ্রামের শিল্পকারখানাগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং পণ্য রফতানিতে বড় বাধা তৈরি হবে।

অন্যদিকে, গ্যাসের চাপ না থাকায় নগরীর সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। বায়োজিদ, ষোলোশহর ও ওয়াসা মোড় এলাকার স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে গণপরিবহণ ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল। বাসাবাড়িতেও গত কয়েকদিন ধরে সকাল থেকে গ্যাস না থাকায় অনাহারে বা বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

নগরীর এই নড়বড়ে জ্বালানি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠন ‘পোর্ট ইউজার্স’র সাবেক সভাপতি ড. পারভেজ সাজ্জাদ আখতার। তিনি বলেন, মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হলেই পুরো চট্টগ্রামের চুলা নিভে যায়। পুরো শহরের জ্বালানি নিরাপত্তা এভাবে এক-দুটি ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতের শিল্পায়ন ও অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আগস্টের শুরুতে এটি আংশিক চালু হলেও সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *