গোল, পরিসংখ্যানে ভিনিসিয়ুস-হালান্ড দ্বৈরথে উত্তাপ

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই ব্যক্তিগত দ্বৈরথের বাড়তি উত্তেজনা। ব্রাজিল ও নরওয়ের শেষ ষোলোর লড়াইয়েও সেই আলোটা গিয়ে পড়েছে দুই ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও আরলিং হালান্ডের ওপর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম মুখ ছিলেন তারা। এবার সেই পরিচিত লড়াই নতুন রূপ পাচ্ছে জাতীয় দলের জার্সিতে।

আজ রাতেই দেখা হচ্ছে তাদের। বিশ্বকাপের শেষ ষোলর লড়াইয়ে মুখোমুখি ব্রাজিল-নরওয়ে। লড়াই শুরু রাত ২টায়।

এদিকে ক্লাব ফুটবলে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বলছে, সাফল্যের পাল্লা কিছুটা হলেও ভিনিসিয়ুসের দিকেই ভারী। রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যকার আটটি ম্যাচে চারবার জয় পেয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং দুটি ম্যাচ জিতেছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা। এই লড়াইগুলোতে ভিনিসিয়ুস শুধু চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সই করেননি, সংখ্যাতেও রেখেছেন স্পষ্ট ছাপ। তিনটি গোল ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট মিলিয়ে আটটি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে তার। অন্যদিকে একই সময়ে রিয়ালের বিপক্ষে হালান্ডের গোলসংখ্যা চার।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু থেকেই দুজনের পারফরম্যান্স ছিল আলোচনায়। ২০২২-২৩ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক গোলে রিয়ালকে এগিয়ে নিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। যদিও ফিরতি লেগে ম্যানচেস্টার সিটি ৪-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ওঠে, সেই ম্যাচে গোল করতে পারেননি হালান্ড। পরের মৌসুমে আবার কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হলে দুই লেগের লড়াই শেষে টাইব্রেকারে বিদায় নেয় সিটি। সেবারও গোলের খাতা খুলতে পারেননি এই দুই তারকা।

তবে সব সময় যে ভিনিসিয়ুসই আলো ছড়িয়েছেন, তা নয়। ২০২৪-২৫ মৌসুমের প্লে-অফে রিয়ালের কাছে ৩-২ গোলে হারলেও সিটির হয়ে জোড়া গোল করেছিলেন হালান্ড। পরে লিগ পর্বেও রিয়ালের বিপক্ষে দলের জয়ে একটি গোল করেন তিনি। অর্থাৎ বড় ম্যাচে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে কখনোই পিছিয়ে থাকেননি নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার।

তবু সামগ্রিক লড়াইয়ে শেষ হাসিটা বেশি হেসেছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং ভিনিসিয়ুস। শেষ ষোলোর দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ গোলের বড় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় লেগে ২-১ ব্যবধানে জয়ের নায়ক ছিলেন ভিনিসিয়ুস। দলের দুটি গোলই আসে তার পা থেকে। হালান্ড একটি গোল করলেও সেটি ম্যানচেস্টার সিটির ভাগ্য বদলাতে পারেনি।

এবার সেই ক্লাব প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাপিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন দুজন। চলতি আসরে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন তারা। হালান্ড ইতোমধ্যে চারটি গোল করেছেন, আর ভিনিসিয়ুসের গোলসংখ্যা পাঁচ। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তারা রয়েছেন শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোচ্ছেন এই দুই ফরোয়ার্ড।

ব্রাজিল-নরওয়ের ম্যাচটি শুধু দুই দলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, এটি হয়ে উঠেছে আধুনিক ফুটবলের দুই সেরা আক্রমণভাগের তারকার আরেকটি অধ্যায়। ক্লাব ফুটবলের পুরোনো হিসাব কি বিশ্বকাপের মঞ্চেও ভিনিসিয়ুসের পক্ষেই যাবে, নাকি হালান্ড বদলে দেবেন গল্পের শেষ-সেই উত্তর মিলবে শেষ ষোলোর মহারণেই।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *