ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ১৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ, তথ্য ও পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে গত ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজা আক্তার তিনজনকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক ৩১ আগস্ট রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। আজ শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—মীম যে বাসায় কাজ করতেন সেই বাসার গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং রেশমার বাবা এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭)। ফয়সাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, আব্দুর রাজ্জাক ওষুধ ব্যবসায়ী ও রেশমা গৃহিণী।
নথি থেকে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মীমের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রেখে তিন আসামি চলে যান। পরে প্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এর পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, সে বাসা থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। পরে ১৭ আগস্ট মীমের স্বজনরা ফয়সালের বাসায় গিয়ে তার খোঁজ করলে তাদের গালিগালাজ করে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা শাহবাগ থানায় যান। পুলিশের সহায়তায় ওই দিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা মরদেহ শনাক্ত করেন তারা।
পরদিন ২১ আগস্ট মীমের মা শাহবাগ থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
