শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ এবং সচিব কমিটির সভা সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং আগামী সংসদ অধিবেশনেই আইনটি উত্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আরও পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে। সে অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক দফা পরামর্শ, মতবিনিময় ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
ভারতে অবস্থানরত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র নিজস্ব আইন ও দায়িত্বের আলোকে বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি সরকার নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে।
সাইবার আইন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে একদিকে সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা অন্যান্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মানহানি, ভুয়া তথ্য প্রচার এবং সাইবার অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যাবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাইবার আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে চূড়ান্ত করা হবে। সরকার মানুষের কণ্ঠরোধ করতে বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করতে চায় না; একই সঙ্গে নাগরিকদের অধিকার ও সুনাম রক্ষায় কার্যকর আইনি কাঠামো নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সময়ই এ বিষয়ে উত্তর দেবে।