আসন্ন ২০তম এশিয়ান গেমসে এবার জাতীয় ক্রিকেট দলকে পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এবারের আসরে ছেলে ও মেয়েদের দুই দলই পদকের লক্ষ্য নিয়ে যাচ্ছে। প্রথমবার জাপানে ক্রিকেটের এতো বড় আয়োজন। তাই উইকেট কেমন হবে, সেই চ্যালেঞ্জও থাকছে টাইগারদের জন্য।
জাপানে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট মাঠের উইকেট তৈরির দায়িত্বে বাংলাদেশে কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করা শ্রীলঙ্কান গামিনি ডি সিলভা। ২০১০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কাজ শুরু করে দীর্ঘ সময় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রধান কিউরেটরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে তার ১৫ বছরের অধ্যায়ের ইতি ঘটে।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, গামিনি যেহেতু উইকেট বানাচ্ছেন, বাংলাদেশের জন্য সেটি কি বাড়তি সুবিধা দেবে? কিংবা মিরপুরের মতো ধীরগতির উইকেট দেখা যাবে জাপানেও? তবে জাতীয় দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের মতে, জাপানের আবহাওয়া, মাটি এবং স্থানীয় পরিবেশই ঠিক করে দেবে নতুন উইকেটটি কেমন আচরণ করবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সালাউদ্দিন। সেখানে উইকেট কেমন হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজ্ঞ এই কোচ বলেন, ‘আইডিয়া নাই। তবে জানি কে বানাইছে। একেক দেশের আবহাওয়া একেক রকম। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করবে উইকেট কেমন হবে। তবে একটা সুবিধা আছে, মেয়েরা আগে খেলবে। মেয়েদের থেকে অনেক তথ্য পাব উইকেট, মাঠ কেমন হবে। মেয়েদের খেলা শেষ হলে ছেলেরা খেলবে।’
গামিনি থাকাকালীন মিরপুরের উইকেট নিয়ে প্রচুর সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে লো-স্কোরিং ম্যাচ নিয়ে সমালোচনা ছিল প্রবল। এমনকি সমর্থকরা শেরেবাংলার উইকেটকে ‘ধান খেত’ হিসেবে উল্লেখ করত। গামিনির তৈরি উইকেট নিয়ে কথা বলেছেন সালাউদ্দিন। তার মতে, গামিনির দোষ নেই, যেমন বলা হতো, তেমন উইকেটই বানাতেন তিনি।
সালাউদ্দিন বলেন, ‘গামিনিকে দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। আমরা ওকে বানাতে বলতাম, তাই উইকেট ওরকম হতো। যে দেশের যেমন আবহাওয়া, মাটি এসবের ওপর নির্ভর করে উইকেট কেমন হবে।’
বাংলাদেশ নারী দলের এশিয়ান গেমস অভিযান শুরু হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ চীন। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনাল এবং ২২ সেপ্টেম্বর হবে পদকের লড়াই। মেয়েদের ম্যাচগুলো শেষ হওয়ার পরই ছেলেদের ম্যাচগুলো হবে একই ভেন্যুতে। ফলে মাঠ নিয়ে একটা ধারণা পাবে বাংলাদেশ।
ছেলেদের টুর্নামেন্ট শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল ২৯ সেপ্টেম্বর, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন। এরপর সেমিফাইনাল ১ অক্টোবর এবং ফাইনাল ৩ অক্টোবর।
এবার অবশ্য বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু অংশ নেওয়া নয়। সোনার পদক জয়ের লক্ষ্যেই যাবে বাংলাদেশ। ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে বাংলাদেশ প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র পুরুষ দল হিসেবে স্বর্ণ জিতেছিল। এরপর ২০১৪ ও ২০২৩ সালে এসেছে ব্রোঞ্জ। মেয়েদের দল ২০১০ ও ২০১৪ সালে রুপার এবং ২০২৩ সালে ব্রোঞ্জ জিতেছে।