গাজীপুরে নারীর মরদেহের একাংশ বস্তাবন্দি আরেকাংশ স্যুটকেসে, রহস্য উদঘাটন

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে ভাসমান ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। এ ঘটনায় নিহতের পরিচয় শনাক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি দা, স্কচটেপ, নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), মোবাইল ফোন ও জুতা।

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। তিনি জয়দেবপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মিশন ইসলামের সাথে তার গত ৫ বছর ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।

পিবিআই জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের ভাড়া বাসায় যান ডলি। সেখানে মিশন ও তার মা বানু আক্তারের সাথে খাবার খাওয়ার পর ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরদিন মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে মিশন একটি স্যুটকেস কিনে আনে। তবে স্যুটকেসে পুরো মরদেহ না ঢোকায় বটি দা ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে কেটে দুই খণ্ড করা হয়। একটি অংশ স্যুটকেসে ও অন্য অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহায়তায় অটোরিকশাযোগে জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি খালে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার আরও জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর ভাসমান অবস্থায় ওই খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের পর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১২ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার এবং বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *