২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশকে ভিসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তেহরান।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরানের সব খেলোয়াড় এবং ‘প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীদের’ ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, ইরান যেন এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ‘সন্ত্রাসীদের’ ভুয়া পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করাতে না পারে।
এর জবাবে তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ আনে। দূতাবাসের দাবি, দলের ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক বিভাগের অনেক কর্মকর্তা এবং কারিগরি উপদেষ্টাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। খবর বিবিসির।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি, মিডিয়া পরিচালকসহ অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।
শনিবার (৬ জুন) তুরস্কের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে ইরান দল মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দেয়। বিশ্বকাপ চলাকালে দলটি মেক্সিকোকে বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করবে।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের দেওয়া ভিসার শর্ত অনুযায়ী ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও ম্যাচ শেষে একই দিনে দেশ ত্যাগ করতে হবে।
ইরান এক বিবৃতিতে মার্কিন ঘোষণাকে ‘সত্য গোপনের চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, জাতীয় দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের জন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। ইরান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে।
এছাড়া গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রতিপক্ষ রয়েছে বেলজিয়াম এবং মিসর। তাদের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ক্যালিফোর্নিয়া ও সিয়াটলে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের প্রতিনিধি দলে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি থাকলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।