খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গায় নানি ও তাঁর দুই নাতিকে হত্যার আলোচিত মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে (৩৮) বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিনগত রাতে বরিশাল নগরীর কাশীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শুক্রবার র্যাব-৬ ও ৮ হতে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র্যাব-৬ সদর কোম্পানি ও র্যাব-৮ যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল নগরীর বিমানবন্দর থানার কাশীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান পলাতক আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ৩০ মে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেবি বেগম (৫৫), তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৩) ও মুস্তাকিমের (৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বেবি বেগমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। আর দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে ২৯ মে রাত থেকে ৩০ মে ভোরের মধ্যে রফিকুল ইসলাম অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের সহযোগিতায় বেবি বেগম ও দুই শিশুকে হত্যা করে পালিয়ে যান। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে বাসার একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বেবি বেগম ও শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে মুস্তাকিমকে নিখোঁজ মনে করা হলেও পরে কক্ষের একটি আলমারির তালা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সিআইডির সদস্যরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
ঘটনার পরের দিন নিহত দুই শিশুর বাবা মাসুম ব্যাপারী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, সাংসারিক কলহের জেরে প্রায় চার বছর আগে তাঁর প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে ফাতেমা বেগম ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে বিয়ে করেন। তবে ফাতেমার মা বেবি বেগম ওই বিয়ে মেনে নেননি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং বেবি বেগম রফিকুলকে বাসায় যেতেও নিষেধ করতেন।