খাল খনন শেষে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ফেরত দিলেন কেরাণীগঞ্জের ইউএনও

ঢাকা জেলার অন্তর্গত কেরাণীগঞ্জ উপজেলার মডেল থানা এলাকার খারাকান্দি ও দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন দিঘীরপাড় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে নির্ধারিত বাজেটের প্রায় অর্ধেক টাকা সাশ্রয় করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন কেরাণীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ও মো. উমর ফারুক। খাল খননের ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েচেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এ পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় কেরাণীগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাশেদ খান জানান, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার দিঘীরপাড় খাল এবং মডেল থানার রুহিতপুর ইউনিয়নের খাড়াকান্দি খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমান সরকারের বিশেষ খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও সরাসরি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনিয়ম রোধে কঠোর ভূমিকা পালন করেন।

এর ফলে কাজ শতভাগ মানসম্মত হওয়ার পরও মূল বাজেট থেকে অর্ধেক পরিমাণ অর্থ বেঁচে যায়। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাশ্রয়কৃত ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে কেরাণীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. উমর ফারুক বলেন, ‘সরকারি অর্থ মানেই জনগণের আমানত। সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত তদারকি থাকলে নির্ধারিত বাজেট থেকেও সাশ্রয়ীভাবে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। আমরা সেই চেষ্টাই করেছি। জনগণের টাকা জনগণের কাছে এবং রাষ্ট্রীয় তহবিলেই ফিরে গেছে।’

স্থানীয় এলাকাবাসী ইউএনওর এ সচ্ছলতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারি প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবি বা বাজেট বৃদ্ধির খবর দেখা গেলেও, কাজ শেষ করে উল্টো দেড় কোটি টাকার বেশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার ঘটনা বিরল। এই পদক্ষেপ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিতে কেরাণীগঞ্জে দীঘিরপার খাল ও খাড়াকান্দি খাল দুটি উদ্বোধন করা হয়।

এতে দিঘীরপাড় খালের জন্যে ওয়েজ খাতে ১ কোটি ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৭ টাকা ও ননওয়েজ খাতে ১ কোটি ৮ লাখ ৮৬ হাজার ২১২ টাকাসহ মোট ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, খাড়াকান্দি খালের জন্য ওয়েজ খাতে ৫৮ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯০ টাকা ও ননওয়েজ খাতে ৫৯ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকাসহ মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩৪৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দপ্রাপ্ত দিঘীরপাড় খালের দৈর্ঘ্য ৭.৫ কিলোমিটার ও খাড়াকান্দি খালের দৈর্ঘ্য ৩.৭৫ কিলোমিটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *