ক্রীড়াঙ্গনে রাজশাহী একসময় গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে ছিল : ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহী একসময় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করছিল। জাতীয় ফুটবল দলের ১৫ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে সাত-আটজনই থাকতেন রাজশাহীর সন্তান। শামসুর ও মনোজ ভাইয়ের মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের অবদান সবাই জানে।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী ম্যাচে ১-০ গোলে বাগমারা উপজেলা দলকে পরাজিত করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন দল।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, শুধু ফুটবলই নয়, ক্রিকেট, হকি ও ব্যাডমিন্টনে রাজশাহী সারা বাংলাদেশে চ্যাম্পিয়ান ছিল এবং ভলিবলে ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি তার ছাত্রজীবনের দীর্ঘসময় রাজশাহী সরকারি কলেজের ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করে বলেন, ওই সময়ে কলেজটি মোট ২৩টি খেলার মধ্যে ২২টিতেই চ্যাম্পিয়ান হয়ে সর্বোচ্চ মেডেল অর্জনের গৌরব অর্জন করেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে রাজশাহী ভবিষ্যতে তার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করে পুনরায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে।

ভূমিমন্ত্রী ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক এই জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের উদ্বোধনের ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনসহ সার্বিক উন্নয়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। প্রতিকূল ও প্রখর রোদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক ক্রীড়ামোদী দর্শক মাঠে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ খেলা উপভোগ করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী সরদার, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সাইদ চাঁদ, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, খেলোয়াড়, দর্শক, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে উদ্বোধনের পাশাপাশি ট্রফি উন্মোচন এবং ডিসপ্লে প্রদর্শনীর পরে উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *