প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফর করা বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জে রাশিয়ার সামরিক মহড়া ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবরে তীব্র প্রতিবাদ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাপান। টোকিও জানিয়েছে, বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ (জাপানে যা ‘উত্তর ভূখণ্ড’ নামে পরিচিত) সংলগ্ন এলাকায় রুশ বাহিনী এই সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। খবর এএফপির।
জাপান সরকারের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, বিরোধপূর্ণ ওই অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে মস্কোর দেওয়া বিজ্ঞপ্তির জবাবে টোকিও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রতিবাদের কথা জানিয়েছে।
জাপানি সংবাদ সংস্থা কিয়োদো রুশ প্যাসিফিক ফ্লিটের বরাতে জানিয়েছে, রুশ বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই পরীক্ষায় তাদের উপকূলীয় ‘বাস্টিয়ন’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ফ্ল্যাগশিপ গাইডেড মিসাইল ক্রুজার ‘ভারিয়াগ’ এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘ওমস্ক’ অংশ নেয়। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে থাকা শত্রু রণতরীতে আক্রমণের মহড়া চালিয়ে সব লক্ষ্যবস্তুতেই সফল আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে রুশ নৌবহর।
ওমান সফররত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের উত্তর ভূখণ্ডে রাশিয়ার এই ধরনের সামরিক তৎপরতা ও ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া জাপানের অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চলতি মাসের ১৩ তারিখে ১৯৪৫ সাল থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জে পুতিন তার প্রথম সরকারি সফর করেন। পুতিনের সেই সফর এবং পরবর্তীতে সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালানোকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিল। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে জি-৭ ভুক্ত দেশ হিসেবে জাপানের মস্কোবিরোধী নিষেধাজ্ঞা ও কিয়েভকে সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে।