ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ আজ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মধ্যরাতে কলকাতার হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার পর থেকেই কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন ও মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর গত রাতে নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে আজ সকালে সাতক্ষীরার এস এম আলীমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয় এবং তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এছাড়া ভারতের পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আজ বিকেলে আরও পাঁচজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত এবং তাঁর পরিবারের তিন সদস্য- আফসানা শারমিন, স্বর্ণশীষ দত্ত ও মো. আকরাম আলী। অন্য মরদেহটি ঢাকার আমিনবাজারের বাসিন্দা বাবু আহমেদের।
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন মরদেহ সংরক্ষণ, পরিবহন ও দেশে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এছাড়া, সাতক্ষীরার নিহত রেবতি সরকারের মরদেহ তার পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী গতকাল রাতে কলকাতায় সৎকার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন আর্থিক ও অন্যান্য সব ধরনের সহযোগিতা করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।